
আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) বর্তমান কমিটির এক বছর পূর্ণ হবে। গঠনতন্ত্রের বিধান অনুযায়ী, এর মধ্যে পরবর্তী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না হলে বর্তমান কমিটির মেয়াদ আরও তিন মাস বাড়বে। সে ক্ষেত্রে আগামী ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত দায়িত্বে থাকতে পারবে বর্তমান ডাকসু।
ডাকসু নির্বাচনকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডারের অংশ করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। প্রথম কার্যনির্বাহী সভায় এ বিষয়ে একটি খসড়া প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। তবে এখনো সেই প্রস্তাব বাস্তবায়ন করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম জানিয়েছেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার জন্য প্রশাসনকে একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে না। বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ডাকসুর যেসব কার্যক্রম চলমান থাকবে, সেগুলো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এগিয়ে নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
নিয়মিত ডাকসু নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে সাদিক কায়েম বলেন, বাংলাদেশে ক্ষমতায় যাওয়ার পর অনেকেই আর ক্ষমতা ছাড়তে চান না। তবে বর্তমান ডাকসুর সদস্যরা ক্ষমতার পদ ধরে রাখতে চান না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তার ভাষায়, ‘আমরা নিয়মিত নির্বাচন চাই। আমরা বাংলাদেশে দেখতে পাই, ক্ষমতা পেলে আর ক্ষমতা ছাড়তে চায় না। আর আমরা যারা আছি, আমরা কেউ এখানে ক্ষমতা ছেড়ে বসে থাকতে চাই না। আমরা চাই, নির্বাচন নিয়মিত হবে। শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা এই ক্যাম্পাসে তারা নেতৃত্ব দেবে।’
ডাকসু নির্বাচন নিয়ে যে অগ্রগতি প্রত্যাশা করা হয়েছিল, তা দেখা যায়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার দাবি, পরবর্তী ডাকসু নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট বিশ্ববিদ্যালয়ের এবারের ১ হাজার ৩১ কোটি টাকার বাজেটে রাখা হয়নি।
অবাধ ও প্রশ্নহীন নির্বাচন চান ছাত্রদলের সাবেক জিএস প্রার্থী
দ্রুত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পাশাপাশি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চান ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেলের সাবেক জিএস প্রার্থী শেখ তানভীর বারী হামিম।
তিনি বলেন, নির্বাচন যখনই অনুষ্ঠিত হোক, সেই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল প্রস্তুত রয়েছে। আগামী ডাকসু নির্বাচন যেন অবাধ, সুষ্ঠু এবং প্রশ্নহীন হয়—এটাই তাদের প্রত্যাশা।
শেখ তানভীর বারী হামিম বলেন, ‘আমরা যখনই নির্বাচন হোক, সেই নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল প্রস্তুত রয়েছে। আমাদের আশা-প্রত্যাশা থাকবে, আগামীতে যে ডাকসু নির্বাচন হবে, সেই ডাকসু নির্বাচন যেন অবশ্যই অবাধ, সুষ্ঠু এবং প্রশ্নবিহীন ডাকসু হয়।’
সব ছাত্রসংগঠনকে নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা প্রশাসনের
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ডাকসুর সভাপতি ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করেই পরবর্তী নির্বাচনের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হবে। তবে ঠিক কবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাননি তিনি।
উপাচার্য বলেন, নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সরকার আন্তরিক। এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে তাদের আলোচনা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রক্রিয়া শুরু করার বিষয়ে সম্মতি দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘সরকার অত্যন্ত আন্তরিক। আমরা সরকারের মহলে কথা বলেছি। তারা বলেছেন, হ্যাঁ, প্রক্রিয়া হাতে নাও। তা হাতে নিয়েছি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথা বলব।’
সব ছাত্রসংগঠনকে একই টেবিলে বসিয়ে আলোচনায় আনা গেলে সেটিকেই নিজের সাফল্য হিসেবে দেখবেন বলেও জানান উপাচার্য।
তার ভাষায়, ‘সব ছাত্রসংগঠন একসঙ্গে বসে, এক টেবিলে বসে, তাদেরকে আনতে পারলেই আমার সেটা সাকসেস।’
এক বছর আগে ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। এবারও সেই নির্বাচনী আবহ ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, পরবর্তী ডাকসু নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। তবে সেই প্রক্রিয়া কবে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাবে এবং পরবর্তী নির্বাচন ঠিক কবে অনুষ্ঠিত হবে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।