
দেশের ব্যাংকিং খাত ডিজিটাল সেবার দিকে দ্রুত এগোচ্ছে, অথচ পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা এখনও ঘরে বসে ফি পরিশোধের সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এ ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তহীনতা ও দক্ষতার অভাব নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি, যেখানে সরকারের ৩২.৭৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে, দেশের শিক্ষা খাতে ডিজিটাল রূপান্তর নিয়ে ‘এডুপে’ (EduPay) নামে একটি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় অনলাইন ফি সংগ্রহ ব্যবস্থা চালু করেছে। দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইতোমধ্যেই কার্যকর এই সিস্টেমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ২৪ ঘণ্টায় ঘরে বসে ফি দিতে পারেন, বিকাশ, নগদ, রকেট, ক্রেডিট-ডেবিট কার্ডসহ নানা মাধ্যমে।
জানা যায়, শিক্ষার্থীদের এই সুবিধা নিশ্চিত করতে ২০২৪ সালে আইএফআইসি ব্যাংক-এর পটুয়াখালী শাখার ব্যবস্থাপক আবদুর রহমান ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি আনুষ্ঠানিক আগ্রহপত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে জমা দেওয়া হয়। ওই পত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি আদায় ব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রস্তাবের পাশাপাশি সম্পূর্ণ পেপারলেস ও স্বয়ংক্রিয় হিসাব ব্যবস্থার বিস্তারিত দিক তুলে ধরা হয়।
শুধু প্রস্তাবেই সীমাবদ্ধ ছিল না ব্যাংকটির উদ্যোগ। শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে ২০২৫ সালের ১৬ মে আইএফআইসি ব্যাংক পবিপ্রবিকে একটি বিশ্ববিদ্যালয় বাস উপহার দেয়, যা শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যাংকটির সক্রিয় সম্পৃক্ততার বাস্তব উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দীর্ঘ বিরতির পর শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির বিষয়টি নতুন করে বিবেচনায় নিয়ে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি আইএফআইসি ব্যাংকের প্রস্তাব পুনরায় পর্যালোচনার জন্য রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে আবেদন করা হয়। তবে এ পর্যন্ত অনলাইন ফি পরিশোধ ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা দৃশ্যমান অগ্রগতি পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি পটুয়াখালী পুরান বাজার উপশাখার ইনচার্জ মেহেদী হাসান বলেন, “ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য সহযোগিতা করছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে উপ- উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি ও বাস সমস্যা উঠে আসে, তখনই শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।”
তিনি আরও জানান, প্রস্তাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে স্থাপন করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা বিকাশ, নগদ, রকেট, ক্রেডিট কার্ডসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ঘরে বসে ফি জমা দিতে পারবে। দেশের ১,৪০০-এর বেশি শাখা থেকেও বিনা সার্ভিস চার্জে ফি দেওয়া যাবে।
তবে আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. শামসুজ্জামান সবুজ জানিয়েছেন, “অনলাইন ফি অটোমেশন ব্যবস্থা চালুর মতো কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি, মূলত প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল না থাকার কারণে। ২০১৬ সালের অনুমোদিত অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী আইসিটি সেলে ১৬ জন কর্মী থাকা উচিত, কিন্তু বর্তমানে মাত্র পাঁচজন কর্মরত। অধিকাংশ কর্মী নেটওয়ার্কিং কাজে নিয়োজিত, ফলে পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন সিস্টেম বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো: হাবিবুর রহমান বলেন, “উপাচার্য বর্তমানে ক্যাম্পাসে না থাকায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আইএফআইসি ব্যাংক ও রূপালী ব্যাংকের উভয়ই অটোমেশন সিস্টেম চালুর আগ্রহ রয়েছে। সুবিধা-অসুবিধা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড এস এম হেমায়েত জাহান বলেন, "আইএফআইসি ব্যাংক পুনরায় আনুষ্ঠানিক আগ্রহপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে। ব্যাংক ইতিমধ্যেই শিক্ষার্থীদের জন্য বাস উপহার দিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও সহযোগিতার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। শিক্ষার্থীদের সুবিধা বিবেচনায় বিষয়গুলো আরও সমন্বয় করার সম্ভাবনা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।"
শিক্ষার্থীরা এখনও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে নগদ লেনদেন ও সময়ের অপচয়ে ভোগান্তি পোহাচ্ছে। এ বিষয়ে উপাচার্যের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে পাওয়া যায়নি।