
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে কেন্দ্র প্রবেশের চেষ্টা করার সময় এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃত ব্যক্তি হলেন ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী রিয়াজুল ইসলামের স্ত্রী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী মাহিমা আক্তার।
একই সময়ে, ভোট প্রক্রিয়ায় ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর অভিযোগে এক যুবককে শিক্ষার্থীদের মারধরের খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনা ঘটে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে।
কয়েক দফা পিছিয়ে ভোটগ্রহণ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় সকাল ৯টায়, যদিও মূল নির্ধারিত সময় সকাল ৮টা ছিল। ভোটগ্রহণ বিকাল ৩টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলবে। সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রগুলোর সামনে দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা গেছে।
এই নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য ৩৮টি ভোটকেন্দ্র এবং হল সংসদের জন্য ১টি কেন্দ্র নির্ধারিত হয়েছে। প্রতি ১০০ শিক্ষার্থীর জন্য একটি ভোটবুথ থাকছে। ভোটগ্রহণ শেষে ৬টি ওএমআর (অপটিক্যাল মার্ক রিডার) মেশিনের মাধ্যমে ভোট গণনা করা হবে।
নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মোস্তফা হাসান জানান, ভোটের আগে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে রাতের মধ্যে ব্যালট পেপার পৌঁছে দেওয়া হয়। ভোটগ্রহণ শেষে ডিজিটাল ওএমআর মেশিন ব্যবহার করে ফলাফল নির্ধারণ করা হবে।
এবারের নির্বাচনের প্রেক্ষাপটও ব্যতিক্রমী। গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর নতুন তারিখ ঘোষণা হওয়ার ঠিক আগে ভোর ৬টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার। এর প্রেক্ষিতে জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে ভোট স্থগিত করা হয়। পরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ৬ জানুয়ারি ভোটের নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়।
নির্বাচনে প্রধান প্যানেলগুলো হল:
ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’
ছাত্রশিবির-আপ বাংলাদেশ-ইনকিলাব সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’
ছাত্রশক্তি সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’
বামপন্থী মওলানা ভাসানী ব্রিগেড প্যানেল
এর পাশাপাশি একটি আংশিক প্যানেল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও অংশগ্রহণ করছেন।