
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচন স্থগিত করাকে কেন্দ্র করে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দিনকে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করে হেনস্তা ও তার কক্ষে তালা দেওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও জকসু নির্বাচন স্থগিতের ব্যাখ্যা প্রদান করেছে জবি শিক্ষক সমিতি।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বিকাল ৩ টায় শিক্ষক সমিতি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সমিতির পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।
শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক জানান, গত ৩০ ডিসেম্বর জকসু নির্বাচনের তারিখ নির্ধারিত থাকলেও ওইদিন ভোরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে জাতি শোকে মুহ্যমান ছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উপাচার্য কর্তৃক আহ্বানকৃত জরুরি সিন্ডিকেট সভায় সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. মোশাররফ হোসেন, বর্তমান সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন এবং সবাই সম্মিলিতভাবে এই সিদ্ধান্তের পক্ষে মত দেন।
এছাড়াও শিক্ষক সমিতি স্পষ্ট করেছে যে, তারা জকসু নির্বাচন সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার পক্ষে এবং শিক্ষার্থীদের এই ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নে আন্তরিক। তবে ছাত্র রাজনীতির দোহাই দিয়ে বা অন্য কোনো অজুহাতে শিক্ষকদের অপমান ও হেনস্তা করা শিক্ষক সমাজ কখনোই মেনে নেবে না। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তারা ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছে।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন বলেন, "সিন্ডিকেটের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও উদ্দেশ্যমূলকভাবে শিক্ষক সমিতির সভাপতিকে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করে তার বিভাগীয় কক্ষে তালা লাগানো হয়েছে এবং প্রশাসনিক ভবনের সামনে প্রশাসনবিরোধী স্লোগান দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে শিক্ষক সমাজের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।"
এ বিষয়ে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক রইস উদ্দিন বলেন, "জকসু নির্বাচন শিক্ষার্থীদের প্রানের দাবি যার সাথে প্রথম দিন থেকেই আমি একাত্মতা পোষণ করেছিলাম। জকসু বাস্তবায়নের জন্য আমরা মিনিমাম ৫ দিন নিজ খরচে ইউজিসিতে গিয়েছিলাম যেন জকসু বিন্দুমাত্র বিলম্বিত না হয়। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি টাকাও আমাদের প্রদান করা হয়নি। একাধিকবার মন্ত্রণালয়ে গিয়েছি। আমাদের মানসিকতা ছিলো যেন আমাদের জন্য একটি মিনিটও জকসু পিছিয়ে না যায়। আমরা যারা এই আন্তরিক প্রচেষ্টা দেখালাম সেই জকসু পেছানোর জন্য যদি আমাদের দায়ী করা হয় তাহলে এর চেয়ে দুঃখজনক আর কিছু হতে পারে না।"
উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর জকসু নির্বাচনের দিন সকালে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নির্বাচন স্থগিতের ঘোষণা দেয়। এর প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের একটি অংশ শিক্ষক সমিতির তৎকালীন সহ-সভাপতি ও বর্তমান সভাপতি অধ্যাপক রইস উদ্দিনের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয় এবং ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। ওই ঘটনার প্রেক্ষিতেই আজ নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।