
ঘরোয়া ক্রিকেটে দীর্ঘদিনের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে দীর্ঘমেয়াদী সুফল পেতে শুরু করেছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পেসারদের বর্তমান দাপুটে পারফরম্যান্সের নেপথ্যে বিসিবির পরিকল্পিত কিছু পদক্ষেপকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান বিসিবি অ্যাডহক কমিটির সদস্য মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। সম্প্রতি এক আলোচনায় তিনি ঘরোয়া ক্রিকেটের মানোন্নয়ন ও আগামীর চ্যালেঞ্জ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।
ঘাস ও বলের নতুন সমীকরণ
মাঠের পারফরম্যান্স নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের নানা সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে নান্নু জানান, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক করতে মাঠ ও উইকেটের চরিত্র বদলে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, "আমাদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করার জন্য আমরা ধারাবাহিকভাবে কাজ করেছি।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মাঠ ও পিচে নির্দিষ্ট উচ্চতায় ঘাস রাখার পাশাপাশি সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে বলের ক্ষেত্রে। আগে যেখানে ‘কোকাবুরা’ বল ব্যবহার করা হতো, সেখানে এখন ‘ডিউক’ বল প্রবর্তন করা হয়েছে।
ডিউক বলের কার্যকারিতা ও ব্যাটারদের দক্ষতা
সুইং বান্ধব ডিউক বল কেন বেছে নেওয়া হলো, তার ব্যাখ্যা দিয়ে নান্নু বলেন, "ডিউক বল তুলনামূলক বেশি সুইং করে। এতে ব্যাটারদের টেকনিক ও দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়। একই সঙ্গে ফাস্ট বোলাররাও ম্যাচের শেষ দিক পর্যন্ত কার্যকর থাকতে পারছে, যা সাম্প্রতিক সাফল্যের অন্যতম কারণ।"
সাবেক এই অধিনায়কের মতে, এই উদ্যোগের ফলে পেসারদের মধ্যে এক ধরণের সুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। এখন ফাস্ট বোলাররা সারাদিন বোলিং করার ক্লান্তি ভুলে শেষ বিকেলেও পূর্ণ আত্মবিশ্বাসের সাথে আক্রমণ চালানোর মানসিক শক্তি অর্জন করছে।
সংস্কৃতি বদলানোর আহ্বান
সাফল্যের চিত্র তুলে ধরলেও ঘরোয়া ক্রিকেটের কিছু পেশাদারিত্বের অভাব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মিনহাজুল আবেদীন। বিশেষ করে প্রস্তুতির ঘাটতি ও শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা নিয়ে তিনি বলেন, "এখনো অনেক ক্ষেত্রে পরিকল্পনার ঘাটতি রয়েছে। আমরা এখনো ম্যাচের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে কোচ ঠিক করার মতো পরিস্থিতিতে আছি।"
তিনি মনে করেন, যদি দীর্ঘমেয়াদী সাফল্য ধরে রাখতে হয়, তবে এই ধরণের অপেশাদার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা এখন সময়ের দাবি। পরিকল্পনা ও মাঠের উদ্যোগের সঠিক সমন্বয়ই দেশের ক্রিকেটকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।