
দেশের ক্রীড়াঙ্গনে দীর্ঘদিনের একপেশে ও অ্যাডহক কমিটির আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে দেশের সমস্ত জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা এবং ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জোরালো সুপারিশ করেছে ‘ক্রীড়াঙ্গনে বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিতকরণ, সমস্যা সমাধান ও উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নে’ গঠিত বিশেষ কমিটি। প্রথম ধাপে ইতোমধ্যে ২৬টি ক্রীড়া ফেডারেশনের কমিটি বাতিলের সুপারিশ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে অবশিষ্ট ফেডারেশনগুলোর বিষয়েও চূড়ান্ত সুপারিশ পেশ করা হবে বলে জানিয়েছে কমিটি।
বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কমিটির সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদোয়ান এসব তথ্য বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে কমিটির অন্য সদস্য—অ্যাডভোকেট আলী ইমাম তপন, আমিনুল হক দেওয়ান সজল ও জাহেদ পারভেজ চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন।
অ্যাডহক কমিটির অবসান ও সুশাসন নিশ্চিতের তাগিদ
সংবাদ সম্মেলনে দেশের ক্রীড়া প্রশাসনের বর্তমান চিত্র তুলে ধরে সদস্য সচিব রেদোয়ান বলেন:
‘দেশের অধিকাংশ ক্রীড়া ফেডারেশন এবং জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা বর্তমানে অ্যাডহক কিংবা দীর্ঘদিনের একপেশে কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এসব কমিটিতে নির্বাচিত প্রতিনিধিত্ব না থাকায় ক্রীড়াঙ্গনে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই প্রাথমিকভাবে ২৬টি কমিটি বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত কমিটি দায়িত্ব নিতে পারে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রথম দফায় চিহ্নিত ২৬টি ফেডারেশনের বড় অংশই অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনভুক্ত এবং এশিয়ান গেমসের মতো বড় আসরে অংশ নিয়ে থাকে। নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন:
‘যারা নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্বে আসবেন, তারাই এশিয়ান গেমসসহ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। আমরা নির্বাচন করিয়েই ছাড়ব’
দলমতের ঊর্ধ্বে থাকবে খেলার মাঠ
দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে যোগ্যদের মূল্যায়নের তাগিদ দিয়ে কমিটির সদস্য আমিনুল হক দেওয়ান সজল বলেন:
‘খেলার মাঠ হবে সবার। বিএনপি, জামায়াত কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক পরিচয় এখানে মুখ্য নয়। ক্রীড়াঙ্গনে আমরা রাজনীতিকে প্রাধান্য দিতে চাই না। আমাদের লক্ষ্য হবে যোগ্য, দক্ষ ও নিবেদিতপ্রাণ সংগঠকদের মাধ্যমে দেশের খেলাধুলাকে এগিয়ে নেওয়া।’