
২০০৭ সালের বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে গেজেট স্থগিত থাকায় সরকারি চাকরিতে যোগ দিতে পারেননি কক্সবাজারের বেলাল হায়দার। শুক্রবার অবশেষে তার দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটলো, যখন তিনি পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিকেল অফিসার হিসেবে যোগদান করেন।
সাদা অ্যাপ্রন পরে সরকারি দায়িত্ব গ্রহণের মুহূর্তটি বেলাল হায়দারের জন্য কেবল চাকরিতে যোগদান নয়, এটি ছিল দীর্ঘকাল ধরে স্থগিত থাকা স্বপ্ন পূরণের প্রতীক।
২০০৫ সালে ২৭তম বিসিএসে অংশ নেওয়া বেলাল হায়দার ২০০৭ সালে ফল ঘোষণার পরও সরকারি নিয়োগ পাননি। অভিযোগ ছিল, ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে তার গেজেট স্থগিত রাখা হয়েছিল। এর ফলে একই ব্যাচের অন্যান্য সহপাঠীরা সরকারি চাকরিতে যোগ দিলেও তিনি বাদ পড়েন।
স্মৃতিচারণায় বেলাল হায়দার বলেন, “ফল প্রকাশের দিনটি আমার জীবনের আনন্দের একটি মুহূর্ত ছিল। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই বুঝলাম, আমার জন্য পথটি সহজ নয়। রাজনৈতিক বৈষম্যের শিকার হয়ে দীর্ঘ অপেক্ষার প্রহর কাটিয়ে দিতে হলো। আদালতের সাহায্য নিতে বাধ্য হয়েছি।”
বেলাল হায়দার আদালতের রায় অনুসারে ২৭তম বিসিএসের গেজেট প্রকাশ ও স্বাস্থ্য ক্যাডারে পদায়ন পান। এর ভিত্তিতে স্বাস্থ্য বিভাগ তাকে সরকারি নিয়োগ দেয়।
আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি জানান, “দেড় যুগ পর আদালতের রায় পেয়ে মনে হলো বুকের ওপর থেকে একটি ভার নেমে গেছে। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেছি। এতদিনের কষ্টের একটি মূল্য অবশ্যই আছে।”
পেকুয়া উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা এই চিকিৎসক এতদিন সরকারি চাকরি না থাকা সত্ত্বেও নিজের চেম্বারে রোগী দেখতেন। স্থানীয়রা তাকে সবসময় ‘ডাক্তার সাহেব’ হিসেবে চিনতেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, “অনেক মানসিক কষ্টের মধ্যেও তিনি রোগীদের অবহেলা করেননি। এখন সরকারি হাসপাতালে যোগ দেওয়ায় আমরা খুবই খুশি।”
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান বলেন, “উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দীর্ঘদিন চিকিৎসকসংকটে ভুগছিল। একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের যোগদান গ্রামীণ জনগণের জন্য নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে। নিয়মিত ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা প্রদানের আশা বাড়ছে।”
বেলাল হায়দার আরও বলেন, “এই ১৮ বছর আমাকে ধৈর্য শিখিয়েছে এবং মানুষের কষ্ট বুঝতে সাহায্য করেছে। এখন সরকারি দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে চাই।”