
প্রায় এক দশক আগে দায়ের হওয়া একটি শিশু ধর্ষণ মামলায় প্রধান আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ঠাকুরগাঁও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। একই মামলার অপর এক আসামিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৩০ জুন) ঠাকুরগাঁও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আলী মনসুর এ রায় ঘোষণা করেন। মামলাটি ছিল ট্রাইব্যুনালের ১৮০/২০১৬ নম্বর মামলা, যার সূত্রপাত হয় ২০১৫ সালের ২৩ অক্টোবর রানীশংকৈল থানায় দায়ের করা একটি মামলার মাধ্যমে।
আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়, ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর রাতে রানীশংকৈল উপজেলার এক বাড়িতে ১৪ বছর বয়সী বাকপ্রতিবন্ধী এক কিশোরীকে একা পেয়ে ধর্ষণ করেন প্রধান আসামি। পরে ভুক্তভোগীর মা ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন এবং চিৎকার দিলে আসামি পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে মামলা দায়ের করা হয়।
দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত প্রধান আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২ লাখ টাকা জরিমানা করেন। আদালত আরও নির্দেশ দেন, জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করতে হবে। প্রয়োজনে দণ্ডিতের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করেও ওই অর্থ আদায়ের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
একই মামলায় অপর আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেন আদালত। এছাড়া বিচারপূর্ব হাজতবাসের সময় সাজা থেকে সমন্বয় করার নির্দেশ দিয়ে দণ্ডিতকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে।