
মিথ্যা বিজ্ঞাপন দিয়ে রঙ মেশানো মুগ ডাল বিক্রির অভিযোগে খাদ্য পণ্য সরবারহের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম খাস ফুডের সকল পর্যায়ের বিক্রয় কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছিল জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। দুই লাখ টাকা জরিমানা দিয়ে ব্যাবসা পরিচালনার অনুমতি পায় তারা। অনুমতি পেয়েও প্রতারণা অব্যাহত রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে পণ্যের সঠিক সোর্স উল্লেখ না করা, যাচাই-বাছাই ছাড়াই থার্ড পার্টির পণ্য বিক্রি করাসহ ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণা এবং কাস্টমারকে প্রতিশ্রুত পণ্য না দেওয়ার অভিযোগ করেছে ভোক্তা অধিকার। এছাড়া খাস ফুডের অন্যতম লিডিং প্রোডাক্ট সরিষা তেলের সোর্স নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তারা সঠিক উত্তর দিতে পারেনি।
এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকারের উপপরিচালক আফরোজা রহমান জানান, অনলাইনে খাস ফুডের বিজ্ঞাপন দেখে একজন গ্রাহক মুগ ডাল অর্ডার করেন। গ্রাহক মুগ ডাল নেবার পর দেখেন সেই ডালের মধ্যে রং মেশানো। পরে গ্রাহক প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে অভিযোগ দায়ের করেন। ভোক্তার কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদারকি করে ভোক্তা অধিকার। পরে ভোক্তা অধিকারের কার্যালয়ে শুনানিতে অংশ নিতে খাস ফুড কর্তৃপক্ষকে ডাকা হয়। শুনানিতে অংশ নিয়ে খাস ফুড নিজেদের ভুল শিকার করেন এবং ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করা মুগ ডাল ফেরত নিবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। পরে ভোক্তা স্বার্থ বিরোধী অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় শুনানিতে খাস ফুডকে জরিমানা করা হয়।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, প্রথম দফায় খাস ফুডকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। তবে প্রতিষ্ঠানটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেনি। এছাড়া ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করা রং মেশানো মুগ ডাল ফেরত নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়েও কোনো তথ্য দেয়নি।
তিনি বলেন, "এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আমরা প্রতিষ্ঠানটির শোরুম ও অনলাইনভিত্তিক সব ধরনের বিক্রয় কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিই। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে অধিদপ্তরের কার্যালয়ে উপস্থিত হতে বলা হয়। পরে কাগজপত্র যাচাই শেষে প্রতিষ্ঠানটিকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ পরিশোধের পর তাদের ব্যবসা পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।"

ফেসবুকে মোহাম্মদ আনোয়ার শাহা নামে একজন ভোক্তা লিখেন, “খাসফুডের প্রধান উদ্যোক্তা প্রিয় এক দ্বীনি ভাই। দ্বীনি ভাইদের প্রতিষ্ঠান হিসেবে এর প্রতি টান থাকবে এটাই স্বাভাবিক। আজকে খাস ফুডকে ভোক্তা অধিকার কার্যক্রম বন্ধ করিয়েছে। কারণ তারা আগেরবার করা জরিমানা আদায় করেনি। জরিমানা করা হয়েছে রং মিশ্রিত ডাল বিক্রি করার কারণে। শুনলাম তারা "সব সমস্যার" সমাধান করে ফেলেছে। কিন্তু কী করেছে, কিভাবে করেছে এবং রং মিশ্রিত ডাল তাদের ওখানে কিভাবে বিক্রি হচ্ছে এসব ব্যাপারে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
খাস ফুডের খাবার নিয়ে অভিযোগ শুনতেছি বছর দেড়েক ধরে। বেশ কয়েকজন বলছিল প্রোডাক্ট ঠিক পায়নি। আমি বিশ্বাস করিনি। কিন্তু একাধিকবার শুনে মনে হলো মান কমেছে। মান কমলেও দাম কিন্তু কখনোই কমেনি তাদের। শুধুমাত্র খাঁটি এজন্য ২ গুণের বেশি দাম নেওয়া ঠিক মনে হয়না”।
নতুনভাবে ব্যবসা পরিচালনার অনুমতি পাওয়ার পরও প্রোডাক্টে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন খাস ফুডের একাধিক ভোক্তা।
ফেসবুকে রুমা বেগম নামে একজন ভোক্তা লিখেছেন, খাস ফুড থেকে অলিভ অয়েল অর্ডার করি। হাতে পাওয়ার পর প্রোডাক্টটির গুণগত মান ঠিক মনে হয়নি। তাদের কাস্টমার সার্ভিসে যোগাযোগ করা হলে তারা প্রোডাক্টটি মানসম্মত বলে দাবি করেন।
খাস ফুডের শুক্রাবাদের একটি শোরুমে গিয়ে দেখা যায়, তাদের অলিভ অয়েল এবং ভার্জিন নারিকেল তেলে বিএসটিআইয়ের সিএম লাইসেন্সের মানচিহ্ন নেই। বিক্রয় প্রতিনিধিকে জিজ্ঞেস করলে তিনি লাইসেন্স আছে কি না, সে বিষয়ে জানাতে পারেননি।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে খাস ফুডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর হাবিবুর মোস্তফা আরমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমাদের প্রোডাক্ট অর্গানিক; তাপমাত্রা ও সিজন ভেদে প্রোডাক্টের টেস্ট ও কালার ভিন্ন হয়। ডালে রং মেশানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা প্রমাণিত নয়।
খাস ফুডের ব্র্যান্ড বিভাগের সাইমুন নামের একজন ফোন করে জানান, তারা এ বিষয়ে একটি অফিসিয়াল স্টেটমেন্ট দেবেন। পরে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো স্টেটমেন্ট পাওয়া যায়নি।