
ঢাকার কেরানীগঞ্জে স্টেডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসের একটি কাভার্ড ভ্যান চুরির ঘটনায় চালককে চুরির অপবাদ দিয়ে প্লায়ার্স দিয়ে পায়ের নখ উপড়ে ফেলা, মারধর এবং অ্যাসিড মিশ্রিত পানি খাওয়ানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। আহত চালকের স্ত্রীর এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ চালকদের আন্দোলনের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গেলে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি রুহুল কুদ্দুসসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
সোমবার (৩০ জুন) রাতে উপজেলার তারানগর ইউনিয়নের ঘাটারচর মিলিনিয়াম সিটির সামনে স্টেডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার সকালে ঘাটারচর এলাকা থেকে স্টেডফাস্ট কুরিয়ারের একটি কাভার্ড ভ্যান চুরি হয়। পরে মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে গাড়িটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সোমবার সকালে কাভার্ড ভ্যানের চালক শাহ আলম মৃধাকে ডেকে এনে মারধর ও প্লায়ার্স দিয়ে পায়ের নখ উপড়ে ফেলার অভিযোগ ওঠে প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে বিকেলে কয়েকশ চালক বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে স্টেডফাস্টের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও চালকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে গিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে ওসি রুহুল কুদ্দুসসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন এবং ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
আহত শাহ আলমের স্ত্রী ময়না আক্তার অভিযোগ করেন, "চুরির অপবাদ দিয়ে স্টেডফাস্টের লোকজন আমার স্বামীর পায়ের বুড়ো আঙুলের নখ প্লায়ার্স দিয়ে তুলে ফেলেছে। বুকে ও গলায় পা দিয়ে নির্যাতন করেছে। এরপর আইপিএস ব্যাটারির অ্যাসিড পানি খাওয়ানোরও চেষ্টা করেছে। আমরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে ভর্তি করেছি। এ ঘটনায় জড়িত প্রত্যেকের বিচার চাই।"
বিক্ষোভকারী চালক সোহেল রানা বলেন, কাজ শেষে শাহ আলম গাড়ি রেখে চা খেতে গেলে সেটি চুরি হয়। পরে কোনো তদন্ত ছাড়াই তাকে চুরির অভিযোগে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
আরেক চালক নোমান মিয়া বলেন, চালকদের কাছে একটি এবং মালিকপক্ষের কাছে আরেকটি চাবি থাকে। তাই ঘটনার প্রকৃত তদন্ত না করে একজন চালকের ওপর নির্যাতন গ্রহণযোগ্য নয়।
অন্যদিকে স্টেডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসের উপমহাব্যবস্থাপক (এডমিন) কাজল সুপিয়র অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কয়েকদিন ধরে একটি চক্র তাদের কাছে চাঁদা দাবি করছিল। তাদের ধারণা, চালক শাহ আলম ওই চক্রের সঙ্গে জড়িত। এ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে চালকেরা সংঘবদ্ধ হয়ে তাদের ওপর হামলা চালায় এবং অর্ধশতাধিক গাড়ি ভাঙচুর করে। শাহ আলমকে নির্যাতনের অভিযোগ সঠিক নয় বলেও দাবি করেন তিনি।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি রুহুল কুদ্দুস বলেন, কাভার্ড ভ্যান চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানের লোকজন পুলিশের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা চালায়। এতে তিনিসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তবে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করবে।