
সারাদেশে হামে আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। দলটির নেতারা বলেছেন, দেশে ভয়াবহ স্বাস্থ্য সংকট তৈরি হলেও সরকারের মধ্যে প্রয়োজনীয় উদ্বেগ, তৎপরতা কিংবা কার্যকর উদ্যোগের কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। শিশু মৃত্যুর ঘটনা বাড়লেও সরকার অনেকটা নির্বিকার আচরণ করছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কার্যালয়ের সামনে সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তর কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে এসব কথা বলেন নেতারা। পরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে একটি স্মারকলিপি পেশ করা হয়।
স্মারকলিপিতে আগামী ১৯ মে’র মধ্যে হাম পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। অন্যথায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ঘেরাও, অবস্থান কর্মসূচিসহ আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন নেতারা।
হামে শিশু মৃত্যুর জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তৎকালীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমকে দায়ী করে সমাবেশে বক্তারা দ্রুত তদন্ত ও বিচারের দাবি জানান।
বক্তারা বলেন, বর্তমানে দেশে শিশু মৃত্যুর হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, একদিনেই ৪১৫ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে এটি কেবল নিবন্ধিত তথ্য। বাস্তবে দেশের গ্রামগঞ্জে আরও অসংখ্য শিশুর মৃত্যু ঘটছে, যার সঠিক হিসাব নেই।
বক্তাদের ভাষ্য, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেক পরিবার চিকিৎসা না পেয়ে সন্তান হারাচ্ছে। অনেক শিশুর মৃত্যুর প্রকৃত কারণও নির্ণয় করা যাচ্ছে না। কিন্তু এত বড় মানবিক সংকটের মধ্যেও সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা, বিশেষ ব্রিফিং বা জাতীয় উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, শত শত শিশু মৃত্যুর জন্য ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তৎকালীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম দায়ী হলেও তাদের বিরুদ্ধে সরকার কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। জনগণ অবিলম্বে এদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা দেখতে চায়।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন বিষয়ে তৎপর থাকলেও এখন পর্যন্ত এই বিপুল সংখ্যক শিশু মৃত্যুর ঘটনায় কোনো হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন বলে খবর পাওয়া যায়নি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হওয়া সত্ত্বেও সংসদে অসংলগ্ন কথা বলছেন এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সাবেক সহকারী সম্পাদক মিহির ঘোষ বলেন, হামে শিশু মৃত্যুর জন্য প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস, তৎকালীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম এবং স্বাস্থ্য সচিব সরাসরি দায়ী।
সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য রাগীব আহসান মুন্না বলেন, শিশুদের এই মৃত্যু কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়; এটি চরম অবহেলা, দুর্নীতি এবং চিকিৎসা খাতকে ব্যবসায় পরিণত করার ফল। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা আজ ভয়াবহ হুমকির মুখে।
সমাবেশ থেকে কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে— জরুরি ভিত্তিতে সারাদেশে হাম প্রতিরোধ কার্যক্রম জোরদার করা, পর্যাপ্ত টিকা দ্রুত সংগ্রহ ও সরবরাহ নিশ্চিত করা, সরকারি হাসপাতালগুলোতে জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা, শিশু মৃত্যু সংক্রান্ত প্রকৃত তথ্য প্রকাশ করা এবং নিম্নবিত্ত মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ সরবরাহ করা।