
হজযাত্রীদের কাছ থেকে কোরবানির টাকা নিয়েও তা নিশ্চিত না করা এবং চুক্তি অনুযায়ী আবাসন, খাবার ও পরিবহনসেবা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় আল মুলতাজিম হজ্জ কাফেলা ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরসকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে, প্রাক্-নিবন্ধনের অর্থ সময়মতো ফেরত না দিয়ে হজযাত্রীদের ভোগান্তিতে ফেলার অভিযোগে ডিবিএইচ ইন্টারন্যাশনালকে সতর্ক করা হয়েছে।
গত ১৪ অক্টোবর মন্ত্রণালয়ের হজ-৪ শাখা থেকে জারি করা পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
৭২৭ হজযাত্রীর কোরবানি নিশ্চিত না করার অভিযোগ
প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, আল মুলতাজিম ট্রাভেলসের বিরুদ্ধে ১৪ জন হজযাত্রী লিখিত অভিযোগ করেন। তাঁদের অভিযোগ, এজেন্সিটি ২ হাজার ২০০ হজযাত্রীর কাছ থেকে কোরবানির জন্য জনপ্রতি ৭২০ সৌদি রিয়াল সংগ্রহ করে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ২৩ হাজার ৬৫২ টাকা।
তবে নুসুক মাসার পোর্টালের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, তামাত্তু হজে নিবন্ধিত ২ হাজার ৭৭ জন হজযাত্রীর মধ্যে মাত্র ১ হাজার ৩৫০ জনের কোরবানি নিশ্চিত করা হয়েছিল। অভিযোগে বলা হয়, বাকি ৭২৭ জনকে ‘রোজাদার’ হিসেবে দেখিয়ে ভুয়া তথ্য ব্যবহার করা হয়। তাঁদের কোরবানি নিশ্চিত না করেই অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
পরবর্তী সময়ে অভিযোগকারীরা লিখিতভাবে তাঁদের অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেন। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মেলে। তদন্তে দেখা যায়, নুসুক পোর্টালসহ অন্য কোনো মাধ্যম ব্যবহার করেও অবশিষ্ট হজযাত্রীদের কোরবানি নিশ্চিত করেনি এজেন্সিটি।
এ ছাড়া চুক্তিতে উল্লেখ থাকা আবাসন, খাবার ও পরিবহনসেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও প্রতিষ্ঠানটি রক্ষা করতে পারেনি।
এসব অনিয়মের কারণে ‘হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা আইন’ অনুযায়ী আল মুলতাজিম ট্রাভেলসকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে এ অর্থ আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জরিমানা পরিশোধ না করলে এজেন্সিটির ব্যবহারকারী পরিচিতি (ইউজার আইডি) ও পাসওয়ার্ড স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
টাকা ফেরতে দেরি করায় সতর্ক ডিবিএইচ ইন্টারন্যাশনাল
অন্যদিকে, প্রাক্-নিবন্ধনের টাকা ফেরত না পাওয়ায় ডিবিএইচ ইন্টারন্যাশনালের বিরুদ্ধে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করেন দুই হজযাত্রী।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ওই দুই ব্যক্তি ২০২২ সালে হজে যাওয়ার উদ্দেশ্যে প্রাক্-নিবন্ধন করেছিলেন। তিন বছর পর তাঁদের নিবন্ধন আর্কাইভে চলে গেলে ২০২৬ সালে তাঁরা আবার প্রাক্-নিবন্ধন করেন। পরে আর্থিক সংকটের কারণে হজে যেতে পারবেন না জানিয়ে জমা দেওয়া অর্থ ফেরত চেয়ে আবেদন করেন।
এজেন্সিটি তাঁদের নিবন্ধন বাতিল করলেও দীর্ঘ সময় ধরে টাকা ফেরত দেয়নি। ফলে ভোগান্তিতে পড়েন ওই দুই হজযাত্রী।
মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, পরে তাঁরা জমা দেওয়া অর্থ ফেরত পান এবং অভিযোগ প্রত্যাহার করেন। তবে নির্ধারিত সময়ে টাকা ফেরত না পাওয়ায় তাঁদের গুরুতর ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছিল।
এ ঘটনায় ‘হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা আইন’ অনুযায়ী ডিবিএইচ ইন্টারন্যাশনালকে ভবিষ্যতে কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।