
আগামী বছরের (২০২৭) পবিত্র হজ পালনের লক্ষ্যে নিবন্ধন শুরু হলেও এখনো প্রত্যাশিত সাড়া মিলছে না। সরকারি ও বেসরকারিভাবে নানা সুযোগ-সুবিধা উল্লেখ করে একাধিক হজ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এরই মধ্যে তিন দিনের হজ মেলাও শেষ হয়েছে। তবে তাতেও কাঙ্ক্ষিত সাড়া মেলেনি।
এক মাসের বেশি সময়ে মাত্র ১ হাজার ২১২ জন হজযাত্রী প্রাথমিক নিবন্ধন করেছেন। শনিবার (২৯ আগস্ট) ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ পোর্টাল থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
হজ নিবন্ধনে কাঙ্ক্ষিত সাড়া না পাওয়ার পেছনে প্রয়োজনীয় প্রচার-প্রচারণার অভাব রয়েছে বলে মনে করছেন হজ এজেন্সির মালিকরা। তবে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দাবি, নিবন্ধন কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চলছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সৌদি সরকারের নতুন নির্দেশনার কারণে ২০২৭ সালের হজের প্রাথমিক নিবন্ধন বেশ আগেই শুরু হলেও সাধারণ মানুষ ও হজ এজেন্সিগুলোর মধ্যে প্রচার-প্রচারণার ঘাটতির কারণে নিবন্ধন প্রক্রিয়া ধীরগতিতে চলছে।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী বছরের ১৫ মে (৯ জিলহজ ১৪৪৮ হিজরি) পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হতে পারে। এবার বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ পালন করতে পারবেন।
২০২৭ সালের হজের প্রাথমিক নিবন্ধন শুরু হয়েছে গত ২৭ জুলাই। সৌদি আরবের রোডম্যাপ অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি উভয় ব্যবস্থাপনায় আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রাথমিক নিবন্ধন করা যাবে। প্রাথমিক নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
শুক্রবার পর্যন্ত মোট ১ হাজার ২১২ জন হজযাত্রী প্রাথমিক নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫২১ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬৯১ জন রয়েছেন।
বাংলাদেশ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জনের হজ কোটা পেলেও তা পূরণ হচ্ছে না।
২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে ৮৭ হাজারের বেশি মানুষ হজ পালন করেন। সময়সূচি এগিয়ে আসা, ব্যয় বৃদ্ধি ও অন্যান্য কারণে ২০২৬ সালে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৭৮ হাজার ৫০০ জনে। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ছিলেন ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন।
ইতোমধ্যে আগামী বছরের হজ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। উড়োজাহাজ ভাড়া কিছুটা কমলেও সৌদি আরবে আবাসন, পরিবহন ও অন্যান্য সেবার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় হজের সার্বিক ব্যয় কমেনি। এর সঙ্গে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও অনুকূলে নয়। ফলে হজ এজেন্সির মালিকরা আশঙ্কা করছেন, গত দুই বছরের মতো ২০২৭ সালেও বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রীর সংখ্যা আরও কমতে পারে।
আগামী বছরের হজে সরকারি ব্যবস্থাপনায় দুটি এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় তিনটি প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্যাকেজ-১ এর মাধ্যমে হজ পালনে খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা। সাশ্রয়ী প্যাকেজ-২-এর খরচ ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা।
বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় বিশেষ প্যাকেজ-১-এর খরচ ৭ লাখ ৯১ হাজার ৬০ টাকা। সাধারণ প্যাকেজ-২-এর খরচ ৫ লাখ ৯৫ হাজার ৫৮০ টাকা এবং সাশ্রয়ী প্যাকেজ-৩-এর খরচ ধরা হয়েছে ৫ লাখ ১৩ হাজার ৫৪৫ টাকা।
ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রাক্-নিবন্ধিত ব্যক্তিরা চাইলে ঘোষিত হজ প্যাকেজের সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ করে একই সঙ্গে চূড়ান্ত নিবন্ধন করতে পারবেন। অন্যথায় আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে প্যাকেজের অবশিষ্ট অর্থ পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হজ এজেন্সির মালিক বলেন, দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রভাব এবারও হজযাত্রায় পড়বে। উড়োজাহাজ ভাড়া কিছুটা কমলেও সৌদি আরবে আবাসন, পরিবহন, মোয়াল্লেম ও ক্যাটারিংসহ বিভিন্ন সেবার ব্যয় বেড়েছে। ফলে হজের সামগ্রিক ব্যয় কমেনি।
তিনি বলেন, ‘আগে হজের কোটার চেয়ে চাহিদা বেশি ছিল। এখন সেই পরিস্থিতি নেই। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় মনে হচ্ছে, এ বছর হজযাত্রীর সংখ্যা খুব একটা বেশি হবে না।’
নিবন্ধনে সাড়া না থাকার বিষয়ে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, ‘যারা হজে যাবেন, তারা অনেক আগে থেকেই নিয়ত করে রাখেন। তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নিবন্ধন করবেন বলে আশা করছি।’
নিবন্ধনের সময় বাড়ানোর বিষয়ে ধর্ম সচিব বলেন, ‘নিবন্ধনের সময় বাড়ানোর সুযোগ নেই। সৌদি আরবের একটি রোডম্যাপ রয়েছে। কোন সময় কোন ধাপ সম্পন্ন হবে, তা নির্ধারিত।’