
পাহাড়ি জনপদ রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে ইউপিডিএফ সদস্য হেগেরা চাকমা ওরফে লেত্তবাপকে (৫০) গুলি করে হত্যার ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে স্থানীয় রাজনীতি। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং খুনিদের গ্রেফতারের দাবিতে আগামী সোমবার (১১ মে) দীঘিনালা-সাজেক-বাঘাইছড়ি সড়কে অর্ধদিবস সড়ক অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে কর্মসূচি ঘোষণা
শনিবার দুপুরে সাজেকের উজো বাজারে ইউপিডিএফের উদ্যোগে একটি প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ থেকে বক্তারা এই হত্যাকাণ্ডের জন্য তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেন এবং অবিলম্বে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। কর্মসূচির বিষয়টি নিশ্চিত করে সাজেক থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন জানান, সোমবারের এই আধবেলা অবরোধকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে।
যেভাবে ঘটল হত্যাকাণ্ড
স্থানীয় বাসিন্দাদের বর্ণনা অনুযায়ী, শনিবার ভোরের আলো ফোটার আগেই একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী সাজেকের শুকনাছড়া এলাকায় অবস্থান নেয়। সেখানে থাকা হেগেরা চাকমাকে লক্ষ্য করে আকস্মিক গুলি চালায় হামলাকারীরা। প্রাণ বাঁচাতে তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলেও ঘাতকদের বুলেট তাঁর দেহ বিদ্ধ করে। ফলে ঘটনাস্থলেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। উল্লেখ্য, নিহত হেগেরা চাকমা ইউপিডিএফ (প্রসিত গ্রুপ)-এর সংগ্রাহক বা ‘কালেক্টর’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন বলে এলাকায় পরিচিত ছিলেন।
জনমনে আতঙ্ক ও নিরাপত্তা বাহিনীর অবস্থান
দিনের শুরুতে এই হত্যাকাণ্ডের খবরে বাঘাইছড়ি ও সাজেক পর্যটন সংশ্লিষ্ট এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরাজমান নিরাপত্তাহীনতা দূর করতে এবং যেকোনো ধরনের সহিংসতা রুখতে পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে।
সাজেক থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানিয়েছেন:
"নিহত হেগেরা চাকমার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের (পোস্টমর্টেম) জন্য খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে আছে।"
বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং সোমবারের অবরোধ কর্মসূচিকে ঘিরে স্থানীয় পরিবহণ মালিক ও চালকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।