
ভারতের রাজনীতির অন্যতম শীর্ষ ব্যক্তিত্ব এবং কংগ্রেসের অভিভাবক সোনিয়া গান্ধীর শারীরিক অবস্থা নিয়ে বুধবার (১৩ মে) সকালে রাজধানী ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। হরিয়ানার গুরুগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার ভর্তির খবর ছড়িয়ে পড়লে নানা মহলে তৈরি হয় কৌতূহল।
অস্ত্রোপচার নাকি রুটিন চেকআপ?
শুরুতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যে, সোনিয়া গান্ধী একটি ছোটখাটো অস্ত্রোপচারের জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে দ্রুতই সেই জল্পনায় জল ঢেলে পরিস্থিতির স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয় কংগ্রেস নেতৃত্ব।
দলের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানান যে, এটি কোনো জরুরি পরিস্থিতি নয়, বরং সম্পূর্ণ একটি রুটিন স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছিল। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ৭৯ বছর বয়সি এই নেত্রী ইতোমধ্যেই হাসপাতাল ছেড়ে নিজ বাসভবনে ফিরে গিয়েছেন।
স্বাস্থ্য জটিলতার দীর্ঘ ইতিহাস
বিগত কয়েক বছর ধরেই বার্ধক্যজনিত ও বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন সোনিয়া গান্ধী। উল্লেখযোগ্য কিছু তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
মার্চ ২০২৬: শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে দিল্লির স্যার গঙ্গারাম হাসপাতালে ভর্তি হয়ে এক সপ্তাহ চিকিৎসাধীন ছিলেন। মূলত দিল্লির দূষণ ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে তার শ্বাসযন্ত্রে সমস্যা দেখা দিয়েছিল।
জানুয়ারি ২০২৬: তীব্র সর্দি-কাশির সমস্যার কারণে তাকে হাসপাতালে নিতে হয়েছিল।
২০২২: বৈশ্বিক মহামারি করোনাকালে তিনি দুই দফায় কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছিলেন।
রাজনীতিতে সোনিয়ার প্রভাব
শারীরিক অসুস্থতার কারণে বর্তমানে সক্রিয় রাজনীতিতে তাকে খুব একটা দেখা না গেলেও, বিরোধী শিবিরের ঐক্য এবং কংগ্রেসের নীতি-নির্ধারণী ক্ষেত্রে সোনিয়া গান্ধী এখনো এক অপরিহার্য নাম। জাতীয় পর্যায়ের বড় সিদ্ধান্ত বা জোট রাজনীতির সমীকরণে তার পরামর্শকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বুধবার সকালে তার অসুস্থতার খবরে তৃণমূল পর্যায়ের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও, বিকেলের দিকে দলের পক্ষ থেকে ‘উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই’—এই আশ্বাসবাণী আসার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে স্বস্তি ফিরে আসে।
সূত্র: সংবাদ সংস্থা।