
দেশে মুক্ত সাংবাদিকতার বিকাশ এবং পেশাগত অধিকার রক্ষার লক্ষ্যে একটি স্বাধীন ও ঐক্যবদ্ধ সম্পাদকীয় প্ল্যাটফর্ম গঠন করতে যাচ্ছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রসমূহের সম্পাদকগণ।
বুধবার (২০ মে) দেশের ৩৪টি সংবাদপত্রের সম্পাদকের যৌথ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই নতুন সাংগঠনিক উদ্যোগের কথা জানানো হয়।
যৌথ বিবৃতিতে সম্পাদকগণ উল্লেখ করেন, দীর্ঘ স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের পর রাষ্ট্র যখন পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে যায়, তখন সমাজের প্রতিটি স্তরেই সংস্কার জরুরি। এই প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে গণমাধ্যম।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থায় মুক্ত সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ করতে যে প্রাতিষ্ঠানিক ও মনস্তাত্ত্বিক বলয় তৈরি করা হয়েছিল, তা থেকে বেরিয়ে এসে একটি স্বাধীন সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠা করা সহজ কাজ নয়। বিগত দিনে সরকারি বিধিনিষেধের পাশাপাশি ‘সেলফ-সেন্সরশিপ’ বা স্বপ্রণোদিত হয়ে সত্য প্রকাশে বিরত থাকার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, তা রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয়।
সম্পাদকগণ জোরালোভাবে বলেন, এককভাবে কোনো সম্পাদকের পক্ষে এই ভয়ের দেয়াল ভাঙা সম্ভব নয়। তবে সম্পাদকরা যদি সমষ্টিগতভাবে দৃঢ় অবস্থান নেন, তাহলে তা প্রতিটি সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের মধ্যে সাহস জোগাবে। জনগণের জানার অধিকারের প্রতি দায়বদ্ধ সম্পাদকীয় প্রতিষ্ঠানই সংবাদকক্ষগুলোকে নির্ভীক সাংবাদিকতায় ফিরিয়ে আনতে পারে।
"সম্পাদকদের যদি একটি শক্তিশালী ও আপসহীন ঐক্য থাকে, তবে মালিক পক্ষের অন্যায্য ও ব্যবসায়িক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব। একই সঙ্গে সরকার এবং রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক বিভিন্ন ‘প্রেশার গ্রুপ’-এর অন্যায্য চাপও মোকাবিলা করা যাবে।"
তেমন একটি ঐক্যবদ্ধ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভব করেই অচিরেই প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংগঠনিক উদ্যোগ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেন তারা।
যৌথ বিবৃতিতে দেশের জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ের ৩৪ জন সম্পাদক স্বাক্ষর করেছেন। শফিক রেহমান (যায়যায় দিন), মাহমুদুর রহমান (আমার দেশ), সালাহ উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর (নয়াদিগন্ত), আবদুল হাই শিকদার (যুগান্তর), আবু তাহের (বাংলাদেশ প্রতিদিন), মারুফ কামাল খান সোহেল (প্রতিদিনের বাংলাদেশ), হাসান হাফিজ (কালের কন্ঠ), আযম মীর শহীদুল আহসান (সংগ্রাম), মোকাররম হোসেন (নিউনেশন), শফিকুল আলম (ওয়াদা), সৈয়দ মেসবাহ উদ্দীন (বাংলাদেশের খবর), রেজাউল করীম লোটাস (ডেইলি সান), মোস্তফা কামাল (খবরের কাগজ), বেলায়েত হোসেন (ভোরের ডাক), ওবায়দুর রহমান শাহীন (জনতা), শহীদুল ইসলাম (মানবকন্ঠ), মো. সায়েম ফারুকী (রূপালী বাংলাদেশ), মনির হোসেন (খোলা কাগজ), ইলিয়াস খান (টাইমস অব বাংলাদেশ), মোস্তাফিজুর রহমান বিপ্লব (বাংলাবাজার পত্রিকা), শেখ নজরুল ইসলাম (খবর সংযোগ), আবুল কাশেম মজুমদার (ক্যাপিটাল নিউজ), ব্যারিস্টার মো. মারুফ ইব্রাহীম আকাশ (খবরপত্র), শামসুল হক দুররানি (নওরোজ), শাহাদাত হোসেন শাহীন (গণমুক্তি), আফসার উদ্দিন চৌধুরী (কর্ণফুলী, চট্টগ্রাম), সোহেল মাহবুব (নতুন প্রভাত, রাজশাহী), মাহবুবা পারভিন (অনির্বাণ, খুলনা), খন্দকার মোস্তফা সরোয়ার অনু (দাবানল, রংপুর), মমতাজ শিরিন ভরসা (যুগের আলো, রংপুর), আশরাফুল হক (প্রবাহ, খুলনা), মুক্তাবিস উন নূর (জালালাবাদ, সিলেট), সাইফুল ইসলাম (নিউ টাইমস, ময়মনসিংহ), শান্তনু ইসলাম সুমিত (লোকসমাজ, যশোর)।