
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতি গ্রহণের প্রেক্ষাপটে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সেনাসদস্যদের পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা, শৃঙ্খলা, ধৈর্য এবং নাগরিকবান্ধব আচরণে দায়িত্ব পালনের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।” এই মন্তব্য তিনি বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় আয়োজিত মতবিনিময় সভায় করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং মোতায়েন সেনাসদস্যদের কার্যক্রম সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করতে বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা পরিদর্শন করেন সেনাপ্রধান। পরিদর্শনকালে তিনি মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন সমন্বয় কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, পরিদর্শনকালে সেনাসদস্যদের কার্যক্রম মনিটর করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয় এবং অসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়।
আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সেনাপ্রধান ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, বিভাগীয় কমিশনার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও অসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে একই ধরনের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাগুলোর মূল আলোচ্য বিষয় ছিল নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা।
চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা পরিদর্শনের সময় জেনারেল অফিসার কমান্ডিং, আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড, কমান্ড্যান্ট (ইবিআরসি), অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল, জিওসি ৩৩ পদাতিক ডিভিশন এবং কুমিল্লা এরিয়া কমান্ডারসহ উর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিভাগীয় কমিশনার ও অসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তারাও অংশগ্রহণ করেন।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ফেসবুক পেজে জানানো হয়েছে, মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কিত একটি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা করেন। উপস্থাপনা শেষে সেনাপ্রধান চট্টগ্রামের নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
সভায় চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসিব আজিজ, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া তিন পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।