
পবিত্র কোরআনের বাণী
মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—
وَمِنَ النَّاسِ مَن يُجَادِلُ فِي اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَيَتَّبِعُ كُلَّ شَيْطَانٍ مَّرِيدٍ
সরল অনুবাদ: “মানুষের মধ্যে কিছু লোক অজ্ঞতাবশত আল্লাহ সম্পর্কে বিতর্কে লিপ্ত হয় এবং তারা প্রত্যেক অবাধ্য শয়তানের অনুসরণ করে।” (সুরা হজ, আয়াত: ৩)
আয়াতের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা
সুরা হজের এই আয়াতে মহান আল্লাহ এমন এক শ্রেণির মানুষের কথা তুলে ধরেছেন, যারা প্রকৃত জ্ঞান ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছাড়াই আল্লাহ তাআলার সত্তা, ক্ষমতা, বিধান ও পরকাল সম্পর্কে বিতর্কে লিপ্ত হয়। তারা আল্লাহর নাজিলকৃত ওহি ও তাঁর রাসুলের নির্দেশনার পরিবর্তে নিজেদের অজ্ঞতা, প্রবৃত্তি এবং ভ্রান্ত ধারণাকে প্রাধান্য দেয়।
এ ধরনের প্রবণতা মানুষকে সত্য থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে। আয়াতটিতে অবাধ্য শয়তানের অনুসরণের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। তাফসিরে ইবনে কাসির ও তাফসিরে আহসানুল বায়ানের আলোচনায় আল্লাহর ক্ষমতা, পুনরুত্থান অস্বীকার এবং আল্লাহ সম্পর্কে ভিত্তিহীন বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে।
আয়াত থেকে শিক্ষা ও করণীয়
১. জ্ঞান ও প্রমাণের ভিত্তিতে কথা বলা: ইসলাম চিন্তা, গবেষণা ও সত্য অনুসন্ধানে উৎসাহিত করে। তবে আল্লাহ, দ্বিন ও পরকাল সম্পর্কে বক্তব্য দেওয়ার আগে নির্ভরযোগ্য জ্ঞান ও প্রমাণ থাকা জরুরি। অনুমান, আবেগ কিংবা ব্যক্তিগত ধারণার ভিত্তিতে দ্বিনের বিষয়ে কথা বলা বিভ্রান্তির কারণ হতে পারে।
২. পুনরুত্থানের প্রতি বিশ্বাস রাখা: মহান আল্লাহ সর্বশক্তিমান। মানুষের মৃত্যু, দেহ মাটিতে মিশে যাওয়া কিংবা হাড়গোড় ক্ষয় হয়ে যাওয়া তাঁকে পুনরায় সৃষ্টি করা থেকে বিরত রাখতে পারে না। কিয়ামতের দিন পুনরুত্থান ও হিসাব-নিকাশ ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের অন্তর্ভুক্ত।
৩. কোরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনা অনুসরণ করা: একজন মুমিনের বিশ্বাস, চিন্তা ও জীবন পরিচালনার প্রধান ভিত্তি পবিত্র কোরআন ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ। ব্যক্তিগত মতামতের চেয়ে আল্লাহর ওহি ও রাসুলের নির্দেশনাকে প্রাধান্য দিতে হবে।
৪. শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে সতর্ক থাকা: শয়তান কখনো প্রকাশ্য পাপের মাধ্যমে, আবার কখনো সন্দেহ, অহংকার ও ভ্রান্ত যুক্তির মাধ্যমে মানুষকে সত্যের পথ থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। তাই আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা এবং দ্বিনের সঠিক জ্ঞান অর্জন করা জরুরি।
৫. সত্য অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করা: কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করা বা আলোচনা করা নিজেই নিন্দনীয় নয়। সঠিক উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করা এবং প্রমাণের ভিত্তিতে সত্য অনুসন্ধান করা প্রশংসনীয়। কিন্তু সত্য গ্রহণের পরিবর্তে নিজের মত প্রতিষ্ঠা, অন্যকে অপদস্থ করা কিংবা অহংকারবশত বিতর্ক চালিয়ে যাওয়া নিন্দনীয়।
৬. অজানা বিষয়ে মনগড়া বক্তব্য না দেওয়া: সব বিষয়ে সবার সমান জ্ঞান থাকে না। কোনো বিষয়ে নিশ্চিত জ্ঞান না থাকলে মনগড়া ব্যাখ্যা দেওয়া কিংবা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নামে অপ্রমাণিত কথা প্রচার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। বিনয়ের সঙ্গে ‘আমি জানি না’ বলতে পারাও জ্ঞান ও তাকওয়ার পরিচয়।
দোয়া: মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের সঠিক জ্ঞান, বিশুদ্ধ আকিদা এবং সত্যের ওপর অবিচল থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।