.jpg)
ইসলামে জুমার দিনকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। এ দিনের গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলোর একটি হলো পবিত্র কোরআনের সুরা কাহফ তিলাওয়াত করা। হাদিসে এ সুরা পাঠের বিশেষ ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। তাই শুক্রবারে মুসলমানদের অনেকে সুরা কাহফ তিলাওয়াত করে থাকেন।
এক জুমা থেকে পরের জুমা পর্যন্ত নূর
হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহফ পাঠ করবে, তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তী সময় নূর বা আলোর ব্যবস্থা করা হবে। হাদিসটি আল-বায়হাকি তাঁর আস-সুনানুল কুবরা গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। মুহাদ্দিসদের অনেকে হাদিসটিকে গ্রহণযোগ্য বলেছেন।
দাজ্জালের ফিতনা থেকে সুরক্ষা
সুরা কাহফের প্রথম ১০ আয়াত মুখস্থ করার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। সহিহ মুসলিমে হজরত আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি সুরা কাহফের প্রথম ১০ আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে সুরক্ষিত থাকবে।
অন্য বর্ণনায় সুরা কাহফের শেষ ১০ আয়াতের কথাও এসেছে। তাই সুরাটি শুধু তিলাওয়াত নয়, এর আয়াতগুলো মুখস্থ করা ও অর্থ বোঝার চেষ্টা করাও গুরুত্বপূর্ণ।
কখন তিলাওয়াত করবেন
বৃহস্পতিবার সূর্যাস্তের পর থেকে শুক্রবার সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়কে শুক্রবারের আমলের সময় হিসেবে ধরা হয়। এ সময়ের মধ্যে সুবিধামতো সুরা কাহফ তিলাওয়াত করা যায়। নির্দিষ্ট কোনো সময়ে পড়তেই হবে—এমন বাধ্যবাধকতা নেই।
শুধু তিলাওয়াত নয়, শিক্ষা গ্রহণও জরুরি
সুরা কাহফে গুহাবাসী যুবকদের ঈমান রক্ষা, দুই বাগানের মালিকের ঘটনা, হজরত মুসা (আ.) ও খিজিরের ঘটনা এবং জুলকারনাইনের ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। এসব ঘটনায় ঈমানের দৃঢ়তা, দুনিয়ার সম্পদের অস্থায়িত্ব, ধৈর্য এবং আল্লাহর ওপর ভরসার শিক্ষা রয়েছে।
তাই শুক্রবারে সুরা কাহফ তিলাওয়াতের পাশাপাশি এর অর্থ ও ব্যাখ্যা বোঝার চেষ্টা করা এবং জীবনে এর শিক্ষা বাস্তবায়ন করাও গুরুত্বপূর্ণ।