
দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর অবশেষে আলোচনার টেবিলে বসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। সাম্প্রতিক সমঝোতার ধারাবাহিকতায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অচলাবস্থা কাটিয়ে ওঠা এবং আঞ্চলিক সংকট নিরসনের লক্ষ্য নিয়ে সুইজারল্যান্ডে শুরু হয়েছে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রোববার (২১ জুন) সুইজারল্যান্ডের লেক লুসার্ন অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে উচ্চপর্যায়ের কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, গত বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতার পরিপ্রেক্ষিতেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। তবে আলোচনা শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই বেশ কিছু জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে।
মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। অপরদিকে ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে অংশ নিয়েছে কাতার ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিরাও।
সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট চার দেশের প্রতিনিধিদল বর্তমানে লেক লুসার্নের একটি রিসোর্টে অবস্থান করছে এবং সেখানেই বৈঠকের কার্যক্রম চলছে।
আলোচনা শুরু হলেও হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেনি তেহরান। ইরানের দাবি, লেবাননে চলমান সংঘাত নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা এ অবস্থান বজায় রেখেছে। ফলে বিষয়টি আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।
বৈঠকের প্রাথমিক এজেন্ডায় রয়েছে হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করা, ইরানের তেল রপ্তানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করার বিষয়।
এদিকে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে লেবানন সংকট এবং সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির বিষয়ও আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
ইরানি প্রতিনিধিদলে স্পিকার গালিবাফের পাশাপাশি উপতেলমন্ত্রী এবং দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরও রয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক অবরোধ শিথিল করা এবং বিদেশে আটকে থাকা আর্থিক সম্পদ মুক্ত করাই বর্তমানে তেহরানের প্রধান অগ্রাধিকার।
মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক থেকে কোনো দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর সমঝোতা বেরিয়ে আসে কি না, সেদিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।
সূত্র: আল জাজিরা