
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারিতে একটি জাহাজভাঙা কারখানায় স্ক্র্যাপ জাহাজের গ্যাস সিলিন্ডারের বিষক্রিয়ায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়িয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে ভাটিয়ারি ইউনিয়নের স্টেশন রোড এলাকার ফেরদৌস স্টিল নামের একটি কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক ইশতিয়াক রহমান জানান, ওই কারখানা থেকে দুই দফায় সাতজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে ছয়জনকে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে। তাদের মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। অপরজনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ঘটনাস্থলে আরও দুজনের মরদেহ রয়েছে বলে জানান সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলমগীর।
এদিকে, বিকেলে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়।
কলকারখানা পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক মাহবুবুল হাসান জানান, ১০ জন শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি গ্যাস নিঃসরণ নাকি বিস্ফোরণ, তা তদন্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি শ্রমিকদের নিরাপত্তাব্যবস্থাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মারা যাওয়া শ্রমিকদের মধ্যে চারজনের নাম-পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন সানি জলদাস (২২), পলাশ জলদাস (২৭) এবং দুই সহোদর মনসুর আলী (৪০) ও নাসির উদ্দিন (৩৮)। তারা সবাই ভাটিয়ারী এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয় জেলেরা জানান, শুক্রবার সকালে কারখানাটির ভেতর থেকে গ্যাস বের হতে দেখা যায়। কারখানা থেকে বের হওয়া গ্যাসের গন্ধের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে সাগরে ইলিশ ধরতে যাওয়া জেলেরা কারখানাটির পাশের খালে প্রবেশ করতে পারেননি। তাদের অন্তত আধা কিলোমিটার দূরে গিয়ে ঘাটে নৌকা ভেড়াতে হয়েছে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, হঠাৎ কারখানার ভেতর থেকে মানুষের চিৎকার শোনা যায়। তারা কারখানা এলাকায় গিয়ে দেখেন, অসুস্থ কয়েকজনকে গাড়িতে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পরে জাহাজের ভেতরে কয়েকজনের মরদেহ পড়ে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন বিক্ষুব্ধ হয়ে কারখানার ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর করেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ বিষয়ে কারখানার মালিক মো. মহিউদ্দিন মুঠোফোনে জানান, তিনি তখন কারখানার বাইরে ছিলেন। কারখানা থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, জাহাজে থাকা ছয় থেকে আটজন কর্মী অসতর্কতার কারণে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়েছেন। কারখানায় গিয়ে তিনি বিস্তারিত জানাবেন।
এদিকে, জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে সকালে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন বলে জানান ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ড ও রিসাইক্লিং কারখানায় যে জাহাজটি কাটা হচ্ছে, সেটি এলএনজি বহন করত। এ ধরনের জাহাজ কাটার আগে গ্যাসমুক্ত করতে হয়।
তিনি আরও বলেন, কিছু কিছু ট্যাংকে ফ্লোরিন, কার্বন মনোক্সাইড ও কার্বন ডাই-অক্সাইড থাকতে পারে। কারখানা কর্তৃপক্ষ ট্যাংক গ্যাসমুক্ত না করেই কাটার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। সেখানে শ্রমিকদের নিরাপত্তাব্যবস্থাও খুবই দুর্বল ছিল।