
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনার আশঙ্কা তৈরি করেছেন ইসরায়েলের প্রবাসীবিষয়ক মন্ত্রী আমিচাই চিকলি। তার দাবি, ভবিষ্যতে কোনো না কোনো সময় সিরিয়ার সঙ্গে ইসরায়েলকে যুদ্ধে জড়াতেই হবে। ক্ষমতাসীন লিকুদ দলের এই প্রভাবশালী নেতার এমন মন্তব্য আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
সিরিয়ার সঙ্গে সংঘাত এড়ানো সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের প্রবাসীবিষয়ক মন্ত্রী আমিচাই চিকলি। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ দলের এই কট্টর ডানপন্থি নেতা গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) একাধিক রেডিও সাক্ষাৎকারে এ বক্তব্য দেন।
চিকলির ভাষ্যমতে, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন একটি কট্টর সুন্নি জোটের উত্থান ঘটছে, যা ইসরায়েলের জন্য গুরুতর নিরাপত্তা হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারার নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আইএস ও আল কায়েদার আদর্শ অনুসরণকারী কোনো জিহাদি সরকার ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করতে পারবে না। তার দাবি, এসব গোষ্ঠীর চূড়ান্ত লক্ষ্য জেরুজালেমের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া।
একই দিনে ইসরায়েলের আর্মি রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চিকলি পাকিস্তান, তুরস্ক ও কাতারকে ঘিরে গড়ে ওঠা একটি সম্ভাব্য জোটকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির চেয়েও বেশি উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন। তার মতে, এই নতুন অক্ষশক্তি বর্তমানে ইরানের তুলনায়ও বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।
চিকলি দাবি করেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতার পর পাকিস্তান ও তুরস্ক আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে কাতারকে তিনি জিহাদি গোষ্ঠীগুলোর ‘জনসংযোগ শাখা’ হিসেবে অভিহিত করেন।
তুরস্ক, পাকিস্তান ও কাতারের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “চোখের সামনেই এক নতুন অক্ষশক্তির উত্থান দেখতে পাচ্ছি। এটি অতীতের যেকোনো হুমকির চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক।”
বিশেষভাবে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের নীতির সমালোচনা করে চিকলি বলেন, সিরিয়ায় আঙ্কারা কার্যত একটি ‘তুর্কি নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠা করেছে। তার ভাষায়, “ইরানের চেয়ে তুরস্ক ও সিরিয়া আমাদের জন্য দশ হাজার গুণ বেশি উদ্বেগের।”
সম্প্রতি তুরস্কের পক্ষ থেকে ইসরায়েলবিরোধী বক্তব্য আরও জোরালো হয়েছে। প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ইসরায়েলকে থামানোকে মানবতার দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও জেরুজালেম মুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
লিকুদ দলের আরও কয়েকজন নেতা তুরস্ককে সরাসরি শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সাবেক ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটও একসময় তুরস্ককে “নতুন ইরান” বলে আখ্যা দিয়েছিলেন।
এদিকে ইউরোপের কট্টর ডানপন্থি রাজনৈতিক পরিমণ্ডলেও সক্রিয় রয়েছেন চিকলি। সম্প্রতি তিনি ব্রিটিশ উসকানিদাতা টমি রবিনসন (স্টিফেন ইয়াক্সলি-লেনন)-এর পক্ষে বক্তব্য দেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইসলামি সন্ত্রাসবাদের সমালোচকদের কণ্ঠরোধ করা হলে ব্রিটেন শিগগিরই ইউরোপের দ্বিতীয় ইসলামি প্রজাতন্ত্রে পরিণত হতে পারে।
তবে চিকলি স্বীকার করেন, দীর্ঘ সময়ের সংঘাতের পর ইসরায়েল শান্তি প্রত্যাশা করে। যদিও তার মতে, তুরস্কের আঞ্চলিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা সেই শান্তিকে স্থায়ী হতে দেবে না। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে, আঙ্কারা দখল করার কোনো পরিকল্পনা ইসরায়েলের নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, এমনিতেই ইসরায়েল ও তুরস্কের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে চিকলির সাম্প্রতিক মন্তব্য দুই দেশের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই