
দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক)কে পুনরায় কার্যকর ও সক্রিয় করার বিষয়ে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ। আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার, বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি এবং বর্তমান ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে দুই দেশ।
সম্প্রতি মালদ্বীপের ৬১তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহামেদ মুইজ্জুর বৈঠকে এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করা হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নিতে মালে সফরকালে প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ে প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
বৈঠকে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শুভেচ্ছা প্রেসিডেন্ট মুইজ্জুর কাছে পৌঁছে দেন। একই সঙ্গে গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানান। এছাড়া জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য তার প্রার্থিতায় সমর্থন দেওয়ায় কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিতে বিশ্বাস করে। এই নীতির আলোকে পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখাকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
বৈঠকে দুই নেতা বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং পারস্পরিক স্বার্থে বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে এই সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে একমত হন। পাশাপাশি সাম্প্রতিক আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করে সার্ককে নতুন উদ্যমে সক্রিয় করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তারা।
মালদ্বীপে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী ও পেশাজীবীর কর্মসংস্থানের বিষয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রেসিডেন্ট মুইজ্জুও মালদ্বীপের অর্থনীতিতে বাংলাদেশিদের অবদানের স্বীকৃতি দেন।
বৈঠকে মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরুথিশাম আদম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলী ইহসান এবং মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
সফর উপলক্ষে পরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্মানে প্রেসিডেন্ট মোহামেদ মুইজ্জু একটি প্রীতি চা-চক্রের আয়োজন করেন। এতে মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট হুসেইন মোহামেদ লতিফ, দেশটির মন্ত্রিপরিষদের সদস্য এবং সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অংশ নেন।
সন্ধ্যায় ড. খলিলুর রহমান মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আয়োজিত একটি বিশেষ কূটনৈতিক অনুষ্ঠানেও যোগ দেন। সেখানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে তিনি মতবিনিময় ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন।