
কারাগারে বন্দি সাবেক সংসদ সদস্য তথা প্রখ্যাত লোকসংগীতশিল্পী মমতাজ বেগমের আইনি লড়াইয়ে বড় ধরনের মোড় এসেছে। পৃথক তিনটি ফৌজদারি মামলায় আজ দেশের উচ্চ আদালত থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন লাভ করেছেন তিনি।
সোমবার (১৫ জুন) হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ শুনানি শেষে এই জামিন আদেশ মঞ্জুর করেন।
আদালতের এই আদেশের পর মমতাজ বেগমের আইনজীবী গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, তিনটি মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ায় আইনি প্রক্রিয়ায় আপাতত বড় ধরনের স্বস্তি পেলেন এই জনপ্রিয় শিল্পী।
এর আগে, ২০২৫ সালের ১২ মে দিবাগত রাত আনুমানিক পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় স্টার কাবাবের পেছনের একটি বহুতল ভবন থেকে মমতাজ বেগমকে গ্রেপ্তার করেছিল ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। গত বছরের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন মিরপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-জনতার ওপর সশস্ত্র হামলা ও নিহতের ঘটনায় দায়ের হওয়া বেশ কয়েকটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি তিনি। গ্রেপ্তারের পর থেকেই তিনি আদালতের নির্দেশে কারাগারে সাজা খাটছিলেন।
মমতাজ বেগমের রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়েছিল ২০০৯ সালে, যখন তিনি নবম জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে প্রথমবার সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মনোনীত হন। পরবর্তীতে দলীয় জনপ্রিয়তার ওপর ভর করে তিনি ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-২ আসন থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে সরাসরি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
তবে ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় টিকিট পেলেও জয়ের ধারা বজায় রাখতে পারেননি তিনি। ওই নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-২ আসনে দলেরই স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান জাহিদ আহমেদ টুলুর কাছে বিপুল ভোটের ব্যবধানে হেরে যান মমতাজ। নির্বাচনের এই আকস্মিক পরাজয়ের পর থেকেই তিনি রাজনীতিতে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সরকারের পতনের পর দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেপ্তার করে।