
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে উত্তরায় সংঘটিত মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ ১১ জন হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। ২৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১। এ বিষয়ে আদেশ ঘোষণার জন্য আগামী ২০ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল–১ এ আদেশের তারিখ নির্ধারণ করেন। মামলায় অভিযুক্ত ২৬ জনের মধ্যে সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মির্জা সালাউদ্দিনসহ ৮ জন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
অন্যদিকে, সাবেক সংসদ সদস্য হাবিব হাসান, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান এবং উত্তরা বিভাগের সাবেক উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) কাজী আশরাফুল আজীমসহ মোট ১৮ আসামি পলাতক রয়েছেন।
মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্রে দুটি পৃথক অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই রাজধানীর উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরে গণঅভ্যুত্থানে আহতদের হাসপাতালে নিতে সহযোগিতা করার পাশাপাশি আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার মধ্যে পানি ও বিস্কুট বিতরণ করছিলেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষার্থী মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ। এ সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। পরে সহপাঠী আন্দোলনকারীরা তাকে উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
একই অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ওই দিনই উত্তরা এলাকায় জাহিদুজ্জামান তানভীন, শেখ ফাহমিন জাফর, মো. শাকিল হোসেন, মো. সাব্বির হোসেন ও সজিব সরকার গুলিতে নিহত হন। এছাড়া সাঁজোয়া যান (এপিসি)-এর পেছনের চাকায় পিষ্ট হয়ে নিহত হন উবারচালক মোখলেসুর রহমান দুর্জয়।
দ্বিতীয় অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই উত্তরায় গুলিতে নিহত হন রিদোয়ান শরীফ, মো. ছাব্বির ইসলাম, মো. আসাদুল্লাহ এবং নাঈমা সুলতানা।