
আট বছর বিরতির পর আবারও বাংলাদেশের মাটিতে বসছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আসর। টুর্নামেন্ট শুরু হতে বাকি মাত্র দুই দিন। বৃহস্পতিবার মাঠে গড়াবে প্রতিযোগিতার খেলা, আর প্রথম দিনই মাঠে নামবে স্বাগতিক বাংলাদেশ। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই আসরের আগে নিজেদের প্রস্তুতি যাচাইয়ের জন্য কোনো প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ হয়নি জাতীয় দলের।
গত ১ অক্টোবর জাকার্তায় ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ৯-২ গোলের বড় ব্যবধানে হারের ম্যাচটিই ছিল বাংলাদেশের সর্বশেষ খেলা। এরপর সাফের আগে আর কোনো ম্যাচে মাঠে নামতে পারেনি দল। ফলে প্রতিযোগিতা শুরুর আগে নিজেদের সামর্থ্য ও প্রস্তুতির বর্তমান অবস্থা যাচাই করার সুযোগও পায়নি ফুটবলাররা।
ফিফা আসিয়ান কাপ ফুটবলে খেলা ম্যাচগুলোকেই সাফের প্রস্তুতি হিসেবে বিবেচনা করে এবার মাঠে নামতে হবে বাংলাদেশকে। প্রায় এক মাস আগে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা জাতীয় দলের খেলোয়াড়েরা কতটা ধরে রাখতে পেরেছেন, তা ভালো বলতে পারবেন কোচ থমাস ডুলি।
আগামী ৫ নভেম্বর ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে সাফ অভিযান শুরু করবে বাংলাদেশ। এর আগে গতকাল জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুশীলন করেছে দল।
ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো বড় টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার আগে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি হিসেবে একটি ম্যাচ খেলা জরুরি। এমন ম্যাচে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স দেখে কোচ নিজের সেরা একাদশ বেছে নিতে পারেন এবং দলের কৌশল ও পরিকল্পনাও চূড়ান্ত করার সুযোগ পান। কিন্তু থমাস ডুলির সেই সুযোগ হয়নি। সাফের আগে কোচের জন্য কোনো প্রস্তুতি ম্যাচের ব্যবস্থা করতে পারেনি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। ফলে নিজেদের মধ্যে অনুশীলন ম্যাচ খেলেই প্রতিযোগিতায় নামতে হবে দলকে।
রোনান সুলিভানের চোট নিয়ে ধোঁয়াশা
যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাংলাদেশি ফুটবলার রোনান সুলিভানকে দলে রেখে স্কোয়াড ঘোষণা করেছিলেন থমাস ডুলি। তাঁকে দলের ৯ নম্বর পজিশনে খেলানোর পরিকল্পনাও ছিল কোচের। কিন্তু শেষ মুহূর্তে জানা যায়, চোটের কারণে সাফে অংশ নিতে পারবেন না এই ফুটবলার।
বাফুফের সহসভাপতি ফাহাদ করিমের বক্তব্য থেকে জানা গেছে, রোনান সুলিভান গত ১০ অক্টোবর চোট পেয়েছিলেন। তবে চোটের খবর ২৯ অক্টোবর প্রকাশ করা হয়েছে বলে রোনান নিজেই ফাহাদ করিমকে জানিয়েছেন।
এ নিয়ে বাংলাদেশের ফুটবল অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে, রোনান সুলিভান কি নিজের চোটের বিষয়টি আড়াল করেছিলেন? আলোচনা চলছে, চোটের কথা গোপন রেখে তিনি সাফে যোগ দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি। চোটের কারণে তাঁর পক্ষে খুব বেশি কিছু করার সুযোগ নেই। এর পাশাপাশি তাঁর চিকিৎসকও নাকি আট সপ্তাহ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে সাফে তাঁর খেলার সম্ভাবনা না থাকাই স্বাভাবিক।
রোনানের চোটের বিষয়ে কোচ থমাস ডুলি বলেন, 'আপনারাও যে খবর পেয়েছেন, আমিও ঠিক সেই খবরই পেয়েছি যে তার চোট আছে এবং সে আসতে পারছে না। তাই আমি এমন বিষয় নিয়ে ভাবি না, যা আমি বদলাতে পারি না। দুশ্চিন্তা করে তো কোনো লাভ নেই। পরিস্থিতি বদলাবে না। তাহলে কেন ভাবব? ধরুন এখন যদি হামজা এসে বলে তার চোট রয়েছে, আমি কী করতে পারি। এখন সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।'
জাতীয় স্টেডিয়ামে গতকাল সাফের প্রস্তুতির ফাঁকে এক ফ্রেমে শুকি ইতোফুসা (বাঁ থেকে), রাকিব হোসেন, মাহি খান ও শেখ মোরছালিন।
নির্দিষ্ট নাম্বার নাইন ছাড়াই খেলতে হতে পারে
রোনান সুলিভান না থাকায় দলের আক্রমণভাগে ৯ নম্বর পজিশনে কাকে খেলানো হবে, তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে কোচকে। এ প্রসঙ্গে থমাস ডুলি বলেন, 'সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে আমাদের একজন নির্দিষ্ট নাম্বার নাইন ছাড়াই খেলতে হতে পারে। তাহলে আমাদের সামনে কী বিকল্প আছে? আমাদের এমন কাউকে খুঁজে বের করতে হবে, যিনি নাম্বার নাইন পজিশনে খেলতে পারেন এবং তার থেকে সেরা পারফরম্যান্স বের করে আনতে হবে।'
রোনানের চোটের বিষয়টি নিয়ে বাফুফে কর্মকর্তারা অস্বস্তিতে রয়েছেন। তাঁদের ধারণা, রোনান সুলিভান নিজের চোটের তথ্য গোপন রেখেছিলেন। শুরুতেই বিষয়টি জানানো হলে কোচ থমাস ডুলি বিকল্প পরিকল্পনা সাজানোর জন্য আরও সময় পেতেন।
রোনানের পরিবর্তে নতুন কোনো ফুটবলারকে দলে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ডুলি বলেন, 'সেই সুযোগ নেই। আমরা ১০ জন নিয়ে খেলছি না, আমরা ১১ জনের বিরুদ্ধে ১১ জন খেলছি। তাই আমাদের নাম্বার নাইন পজিশনে কাউকে না কাউকে রাখতেই হবে। আমরা আসিয়ান কাপে কোনো নির্দিষ্ট নাম্বার নাইন ছাড়াই খেলেছিলাম।'
সাফের প্রথম ম্যাচে দলের কৌশল কী হবে, জানতে চাইলে কোচ ডুলি জানান, একটাই লক্ষ্য—জয়। রোনান সুলিভানের অনুপস্থিতির কারণে নতুন কোনো ফুটবলারকে দলে নেওয়ার সুযোগও এখন আর নেই। ফর্টিসের ফুটবলার টুডুকে দলে যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। তবে এ নিয়ে এখনো চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।