
ময়মনসিংহের ভালুকায় রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জেরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়ানোর ঘটনায় বাবা-ছেলেকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি, যা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে সন্ত্রাস, সংঘর্ষ ও রক্তপাতের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ভালুকা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং জামিরদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. খোকা মিয়া ও তার ছেলে, সাবেক ছাত্রনেতা এবং বিএনপির কর্মী তোফায়েল আহমেদ (রানা)-কে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক বিভাজনের কারণেই বাবা-ছেলের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। খোকা মিয়া ছিলেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদের সমর্থক, আর তার ছেলে তোফায়েল আহমেদ (রানা) সমর্থন দিতেন বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী মোহাম্মদ মোর্শেদ আলমকে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তোফায়েল খোকা মিয়ার প্রথম স্ত্রীর সন্তান এবং প্রায় ১০ বছর আগে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর থেকেই ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল।
গত রোববার দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের নারিশের মোড় এলাকায় খোকা মিয়াকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে তার ছেলে রানার বিরুদ্ধে। এর আগে ১২ এপ্রিল নিজের কার্যালয়ে বসেছিলেন রানা। তখন খোকা মিয়া লোকজন নিয়ে এসে কার্যালয় বন্ধ করতে বললে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং এক পর্যায়ে গুলির ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়।
এ ঘটনায় খোকা মিয়া (৫০) আহত হন। তার সঙ্গে থাকা স্থানীয় বাসিন্দা ফয়জুদ্দিনের ছেলে খোকন (৪৫) আহত হন। এছাড়া রানার পক্ষের বখতিয়ার আহমেদ নাহিন (২৪) নামের আরও একজন আহত হন বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ছয়টি তাজা গুলিভর্তি ম্যাগাজিন, একটি তাজা গুলি এবং একটি গুলির খোসা উদ্ধার করে।
বহিষ্কারের বিষয়ে ভালুকা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমিন মাসুদ জানান, তিনি এ বিষয়ে এখনও অবগত নন; বিস্তারিত জেনে পরে মন্তব্য করবেন।