
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনা কোনো চুক্তিতে রূপ না নিলে বিশ্ব মানচিত্র থেকে ইরানের অস্তিত্ব বিলীন করে দেওয়ার চূড়ান্ত হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে সুইজারল্যান্ডে শান্তি বৈঠকে অংশ নেওয়া ইরানি কূটনৈতিক দলকেও অত্যন্ত কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফক্স নিউজের সঙ্গে দীর্ঘ ২০ মিনিটের এক ফোনালাপে ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দেন, পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেবে।
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান যদি শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তবে ওই নৌপথ ব্যবহারকারী সমস্ত বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে ওয়াশিংটন শুল্ক বা টোল আদায় শুরু করবে।
ট্রাম্পের যুক্তি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অনায়াসেই এই প্রণালির ‘অভিভাবক’ বা রক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারে এবং এর পারিশ্রমিক হিসেবে ওই পথ দিয়ে পার হওয়া মোট জ্বালানি তেলের ২০ শতাংশ নিজেদের অংশ হিসেবে দাবি করতে পারে।
মূলত লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে এই নতুন করে পারমাণবিক উত্তেজনার পারদ চড়েছে।
এর আগে গত শনিবার (২০ জুন) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দেশটির সামরিক কমান্ডের সূত্র ধরে একটি খবর প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, ইসরাইল কর্তৃক লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করা এবং যুদ্ধ অবসানের খসড়া চুক্তির প্রথম শর্তটি বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতার প্রতিবাদ হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেবে।
ইরানের পক্ষ থেকে এমন ঘোষণা আসার পরপরই ফক্স নিউজের লাইভ অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে নিজের তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ফোনালাপ চলাকালীন ট্রাম্পকে ইরানে পুনরায় মার্কিন বিমান ও বোমাবর্ষণ শুরু করার হুমকি দিতে শোনা যায়। এমনকি সুইজারল্যান্ডে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেওয়া ইরানি কূটনীতিকদেরও তিনি সরাসরি নিশানা করেন।
জলপথটি অবরুদ্ধ করার বিষয়ে ইরানি কর্মকর্তাদের ঠিক কী বার্তা দিয়েছেন, তা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, “আমি তাদের বলেছি তোমরা যদি এটি বন্ধ করো, তবে তোমাদের কোনো দেশই অবশিষ্ট থাকবে না। এমনকি তোমরা নিজেদের দেশে ফিরে যাওয়ারও সুযোগ পাবে না।”
এদিকে কেবল হরমুজ প্রণালিই নয়, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর পেছনে ইরানের আর্থিক ও সামরিক মদদ জোগানো নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প।
গত রোববার (২১ জুন) সকালে নিজের ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, “লেবাননে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য ইরানকে তাদের বিপুল অর্থপুষ্ট প্রক্সি বা অনুগত গোষ্ঠীগুলোকে অবিলম্বে থামাতে হবে। তারা যদি এটি না করে, তবে গত সপ্তাহের চেয়েও আরও মারাত্মকভাবে ইরানের ওপর হামলা চালানো হবে।”
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন বিস্ফোরক ও আক্রমণাত্মক মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থিত হরমুজ প্রণালি দখলের বাস্তব রূপরেখা কিংবা এর আইনি ভিত্তি কী হতে পারে, তা জানতে হোয়াইট হাউজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।