
পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ সংসদে সংবিধান ও গণভোট নিয়ে বক্তব্যের সময় বলেন, “সংবিধান যদি মানতে হতো তাহলে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে থাকার কথা না। অন্য দেশের থাকার কথা। সংবিধান মানতে হলে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এখন দেশের বাইরে থাকার কথা ছিল। আমরা খুব লজ্জিত হই মাননীয় স্পিকার।”
সোমবার (৩০ মার্চ) বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনে নির্ধারিত বক্তব্যে তিনি সংবিধান ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন।
ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, “আমরা সংবিধান নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করে যদি সংবিধানই আমাদের রক্ষা করতে পারতো, তাহলে সংবিধান আমাদেরকে বলে দিত যে সেদিন ( খালেদা জিয়ার বাসভবনের সামনে) বালুর ট্রাক সরানোর ক্ষেত্রে সংবিধানের পৃষ্ঠা আমাদেরকে খুঁজতে হতো। সংবিধান যদি আমাদেরকে রক্ষা করতে পারতো তাহলে ৭২-এর সংবিধানের আলোকে আজকে আমাদের এখানে থাকার কথা না। আমি শফিকুল ইসলাম মাসুদ। আমার এখন জেলখানায় থাকার কথা।”
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের বর্তমান এই প্রেক্ষাপটটা নতুন করে এখন যে গণভোটের ন্যায্যতা ও অন্যায্যতা, সাংবিধানিক পৃষ্ঠা, লাইন, অক্ষর, দাড়ি-কমা আমাদেরকে শেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। যদি সেটা হতো তাহলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সম্মানিত মহাসচিব তিনি কয়েক হাজার পুলিশের বেষ্টনীর মাঝখানে একা একটা মোবাইল নিয়ে তাকে আমরা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি। তখন সংবিধান আমাদেরকে রক্ষা করতে পারে নাই। মাননীয় স্পিকার আমি ৩৫০টি মামলা জামিন করতে সাত মাস সময় লেগেছে। আর আমার বের হতে সময় লেগেছে সাড়ে বছর। আমি সেই সাড়ে বছরে তিনবার রি-অ্যারেস্ট হয়ে দুইবার গুম হয়েছি।”
নিজের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমি তখন ডিজিএফআই-এনএসআই-ডিবি-এসবির কাছে জানতে চেয়েছিলাম, আমার সামনে দিয়ে বড় বড় নেতারা বের হয়ে যাচ্ছে আমার অপরাধটা কী? তখন বলেছিল তারা হুমকি না, হুমকি হচ্ছেন আপনারা। আমাদেরকে যখন শেখ হাসিনার শেষ সরকার নিষিদ্ধ করেছিল তখন তারা ১৪ দল মিটিং করে বলেছিল, এই জামায়াত-শিবিরে হচ্ছে সবচেয়ে বড় সমস্যা। তাদেরকে নিষিদ্ধ করলে এই আন্দোলন (জুলাই আন্দোলন) থেমে যাবে।”
গণভোট প্রসঙ্গে সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “আজ একটা কথা পরিষ্কার বলতে চাই, এই গণভোট নিয়ে আমাদের মাথা ব্যথার মূল কারণ হচ্ছে এখানেই। শেখ হাসিনা আমাদেরকে যথার্থ টার্গেটটা করেছিল। সেই টার্গেটের মূল লক্ষ্য ছিলাম আমরা। আমাদেরকে বলা হয়েছিল, একটা গুলি করলে একটা সরে, বাকিগুলো লড়ে না। সেই লড়ে না লোকগুলো ছিলাম আমরা, মাননীয় স্পিকার। যার কারণ আমাদেরকে তারা ভয় পেত।”
তিনি আরও বলেন, “গণভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে যদি এই জাতির সাথে প্রতারণা করা হয়, তাহলে এর মূল্য দিতে হবে। আবার আমাদেরকে ১৭ বছরের সেই জেল-জুলুম, নিপীড়ন ও গুম-খুনের পরিস্থিতিতে ফিরে যেতে হতে পারে।”
গণভোটের বিরোধিতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “গণভোটের প্রতি সমর্থন না জানিয়ে জুলাই সনদকে যদি আজকে ইগনোর করা হয়। তাহলে আমাদেরকে কিন্তু আবার সেই গুম-খুনের ও আয়না ঘরের দিকে আমাদেরকে ধাবিত করা হবে। আমি মনে করি, গণভোটের বিরোধিতা করার অর্থ হচ্ছে আমরা আয়নাঘরকে সমর্থন করতে চাই। গণভোটের বিরোধিতা করা মানে হচ্ছে ৭০ শতাংশ মানুষকে আমরা অন্যায্যভাবে তাদেরকে আবার ধিক্কার জানাতে চাই।”