
মাত্র তিন বছর আগেও ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে বিপর্যস্ত ছিল শ্রীলঙ্কা। সেই ধাক্কা সামলে উল্লেখযোগ্য পুনরুদ্ধারের স্বীকৃতি হিসেবে এবার দেশটিকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশের কাতারে উন্নীত করেছে বিশ্বব্যাংক।
গত বুধবার প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ আয়ভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাসে শ্রীলঙ্কার এই উন্নীত হওয়ার তথ্য জানানো হয়। ২০২৫ সালে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন এই শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শিল্প উৎপাদনের পুনরুদ্ধার, পর্যটন খাতের সম্প্রসারণ এবং আর্থিক সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি এ অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বিশ্বব্যাংক শ্রীলঙ্কাকে ‘পুনরুদ্ধারের এক গল্প’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, ২০২২ সালে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে দেশটির অর্থনীতি প্রায় ধসে পড়ার অবস্থায় পৌঁছেছিল। তবে শিল্প, পর্যটন ও আর্থিক সেবা খাতের ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির ফলে ২০২৫ সালে প্রকৃত জিডিপি ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সংস্থাটির মতে, এই পুনঃশ্রেণিবিন্যাস দেশটির অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতার গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হলেও উচ্চ মধ্যম আয়ের সীমা তারা অল্প ব্যবধানে অতিক্রম করেছে।
বিশ্বব্যাংক বিশ্বের দেশগুলোকে চারটি আয়ভিত্তিক শ্রেণিতে বিভক্ত করে থাকে—উচ্চ আয়, উচ্চ মধ্যম আয়, নিম্ন মধ্যম আয় এবং নিম্ন আয়। শ্রীলঙ্কার নতুন অবস্থান সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, আগের ক্যালেন্ডার বছরের মাথাপিছু মোট জাতীয় আয় (জিএনআই) বিবেচনায় এ শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে। এবারের তালিকায় বিশ্বের ২১৮টি দেশ ও অর্থনীতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নতুন এই শ্রেণিবিন্যাস ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত বৈশ্বিক মানদণ্ড হিসেবে কার্যকর থাকবে।
২০১৯ সালের ইস্টার সানডে হামলা, এরপর করোনা মহামারি এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য সংকটের সম্মিলিত প্রভাবে ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কা সার্বভৌম ঋণ পরিশোধে খেলাপি (সভরেন ডিফল্ট) হয়। এর ফলে দেশটি কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক মন্দার মুখোমুখি হয়েছিল।
বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সহায়তায় বাস্তবায়িত বিস্তৃত অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা কর্মসূচির ইতিবাচক ফলই এই পুনঃশ্রেণিবিন্যাসে প্রতিফলিত হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, মুদ্রানীতির সংস্কার এবং বৈদেশিক ঋণ পুনর্গঠনের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে, পর্যটন খাতের ঘুরে দাঁড়ানো, প্রবাসী আয় বৃদ্ধি, বৈদেশিক খাতের উন্নতি এবং টানা দুই বছর সংকোচনের পর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ফিরে আসাই শ্রীলঙ্কার পুনরুদ্ধারের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।