
আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি ও সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার চরম টানাপোড়েনের মাঝেই এক অভাবনীয় কূটনৈতিক সৌজন্য দেখাল রিয়াদ। ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি আনুষ্ঠানিক শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে সৌদি আরব।
আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) সৌদির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এল খেরেজির নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল তেহরানে এসে পৌঁছায় এবং প্রয়াত নেতার মরদেহে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টাইমস অব ইসরায়েল’ এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল তেহরানে
খামেনির বিদায় অনুষ্ঠানে সৌদি আরব কোনো প্রতিনিধি পাঠাবে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নানামুখী জল্পনা-কল্পনা চলছিল। এর আগে বিভিন্ন সূত্রে খবর রটেছিল, রিয়াদ তাদের প্রতিনিধি দল এখনো চূড়ান্ত করতে পারেনি। তবে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে সরাসরি তেহরানে হাজির হন সৌদির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
সাবেক এই সর্বোচ্চ নেতাকে শেষ বিদায় জানাতে ইরান সরকার সপ্তাহব্যাপী এক রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আয়োজন করেছে, যা আজ শুক্রবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো। প্রটোকল অনুযায়ী, আজ প্রথম দিনে খামেনির মরদেহটি কেবল বিদেশি কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য নির্ধারিত স্থানে রাখা হয়েছে। আগামীকাল শনিবার থেকে সাধারণ মানুষের শেষ দর্শনের জন্য তাঁর কফিনটি উন্মুক্ত স্থানে স্থানান্তর করা হবে।
বৈরী সম্পর্কের বরফ গলার আভাস?
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আকস্মিক যৌথ সামরিক হামলার পর সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। ওই হামলার জবাবে ইরানও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং সৌদি আরবসহ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক অবকাঠামো ও ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানায়। সৌদি ভূমিতে ইরানের এই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জেরে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে চরম অবনতি ঘটে। কিন্তু সেই বৈরী সম্পর্ককে একপাশে সরিয়ে রেখে খামেনির মৃত্যুতে সৌদির এই শ্রদ্ধা জ্ঞাপনকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারির সেই ভয়াবহ হামলার দিনই পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যসহ প্রাণ হারান আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তবে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, গালফ বা উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো এখন পর্যন্ত খামেনির প্রয়াণে আনুষ্ঠানিক কোনো শোকবার্তা প্রকাশ করেনি। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আনুষ্ঠানিকভাবে শোক প্রকাশ না করার মাধ্যমে দেশগুলো মূলত ইরানের সম্ভাব্য নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে সুপ্রিম লিডার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া থেকে কৌশলগতভাবে বিরত থাকছে।
সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল