
শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট প্রশাসনে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। সাময়িকভাবে দেশটির ক্রিকেট বোর্ড শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি)-এর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সরকার। ক্রিকেট প্রশাসনের বিদ্যমান সংকট ও অনিয়ম মোকাবিলায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) দেওয়া এক ঘোষণায় জানানো হয়, এখন থেকে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সব প্রশাসনিক কার্যক্রম যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হবে। এটি কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নয়, বরং কাঠামোগত সংস্কার ও বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের অংশ হিসেবে নেওয়া একটি সাময়িক পদক্ষেপ।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, খুব শিগগিরই একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি বর্তমান প্রশাসনিক সমস্যা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের সুপারিশ দেবে এবং ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়ে কাজ করবে।
দীর্ঘদিন ধরেই শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে আলোচনায় রয়েছে। এসব সমস্যার প্রভাব শুধু প্রশাসনে নয়, মাঠের পারফরম্যান্স ও আন্তর্জাতিক সুনামেও পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে ২০২৩-২৪ মৌসুমে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটকে দুই মাসের জন্য স্থগিত করেছিল, যা দেশটির ক্রিকেট প্রশাসনের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হয়।
সরকারি হস্তক্ষেপের পরপরই বোর্ডের চারবারের সভাপতি শাম্মি সিলভা এবং নির্বাহী কমিটি পদত্যাগ করে, ফলে প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি হয়।
সম্প্রতি ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ শ্রীলঙ্কার পারফরম্যান্সও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। দলটি গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই হস্তক্ষেপ যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তবে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ফিরতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এর সফলতা নির্ভর করবে ঘোষিত সংস্কার কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয় তার ওপর।