
ইসলামে শুক্রবার একটি মর্যাদাপূর্ণ দিন। এদিন অন্যান্য ইবাদতের পাশাপাশি মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ ও সালাম পাঠ করার প্রতি বিশেষভাবে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। মুসলিমদের জন্য শুক্রবারকে ইবাদত, দোয়া ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে কাটানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
হাদিসে শুক্রবার বেশি বেশি দরুদ পাঠের ফজিলতের কথা উল্লেখ রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি দরুদ পাঠের মাধ্যমে তাঁর প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান প্রকাশের পাশাপাশি আল্লাহর রহমত ও নৈকট্য লাভের আশাও করা হয়।
সহজভাবে পড়া যায়—
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَىٰ مُحَمَّدٍ وَعَلَىٰ آلِ مُحَمَّدٍ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি ‘আলা মুহাম্মাদিওঁ ওয়া ‘আলা আ-লি মুহাম্মাদ।
অর্থ: হে আল্লাহ, হজরত মুহাম্মদ (সা.) ও তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
এ ছাড়া নামাজে পড়া দরুদে ইব্রাহিমও বেশি বেশি পাঠ করা যায়। এতে মহানবী (সা.) ও তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর আল্লাহর রহমত কামনা করা হয়।
শুক্রবার দরুদ পাঠের পাশাপাশি মুসলমানরা নামাজ আদায়, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়ার মাধ্যমে দিনটি কাটাতে পারেন। বিশেষ করে আসরের পর থেকে মাগরিবের আগ পর্যন্ত দোয়া কবুলের সময় হিসেবে হাদিসে যে সময়ের কথা এসেছে, সে সময়ে বেশি বেশি দোয়া করার প্রতি আলেমরা গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।
শুক্রবারের ইবাদতের মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর নৈকট্য অর্জন, গুনাহ থেকে বিরত থাকা এবং মহানবী (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করে জীবন পরিচালনার সংকল্প করা। তাই এ দিনটিকে শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করা উচিত।