
সুস্থতা মানুষের জীবনের অন্যতম বড় নিয়ামত। সুস্থ শরীর ও প্রশান্ত মন না থাকলে দৈনন্দিন কাজ যেমন ব্যাহত হয়, তেমনি ইবাদত-বন্দেগিতেও আসে নানা সীমাবদ্ধতা। অথচ একজন মুমিনের জন্য অসুস্থতাও হতে পারে কল্যাণের কারণ—যদি সে ধৈর্য ধরে এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখে।
ইসলামি দৃষ্টিতে অসুস্থতা মুমিনের গুনাহ মাফের একটি মাধ্যম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘মুসলিম ব্যক্তির উপর যে কষ্ট-ক্লেশ, রোগ-ব্যাধি, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, দুশ্চিন্তা, কষ্ট ও পেরেশানী আসে, এমনকি যে কাঁটা তার দেহে ফুটে, এ সবের মাধ্যমে আল্লাহ তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন।’ (মুসলিম : ২৫৭৩)।
অর্থাৎ, রোগ-ব্যাধির কারণে একজন মুমিন যে কষ্টের মধ্য দিয়ে যান, তা তাঁর জন্য গুনাহ মাফের সুযোগ হয়ে উঠতে পারে। অসুস্থতার কারণে ইবাদতে কিছুটা ঘাটতি হলেও আল্লাহর কাছে সেই কষ্টের আলাদা মর্যাদা রয়েছে।
অসুস্থতার সময় ধৈর্য ধারণ করলেও মুমিনের মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে কোন মুসলিমের গায়ে কাটা বিদ্ধ হয় কিংবা তার চাইতে অধিক (কোন আঘাত লাগে), তার পরিবর্তে তার একটি মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং তার একটি গোনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।’ (মুসলিম : ৬৩২৭)। তাই কঠিন সময়ে হতাশ না হয়ে আল্লাহর ওপর আস্থা রাখা মুমিনের জন্য বিশেষ প্রতিদানের কারণ হতে পারে।
শুধু তাই নয়, সুস্থ অবস্থায় নিয়মিত করা আমলের সওয়াব অসুস্থতার সময়ও অব্যাহত থাকে। এ বিষয়ে নবীজি (সা.) বলেন, ‘বান্দা যখন অসুস্থ হয় অথবা সফরে যায়, তখন তার জন্য সেই আমলের সওয়াবই লেখা হয়, যে আমল সে স্বগৃহে অবস্থানকালে সুস্থ থাকা অবস্থায় করত।’ (বুখারি : ২৯৯৬)।
এর মাধ্যমে বোঝা যায়, সুস্থ থাকা অবস্থায় নিয়মিত নেক আমল করার গুরুত্ব কতটা। পরবর্তীতে অসুস্থতা বা সফরের কারণে সেই আমল করতে না পারলেও পূর্বের অভ্যাসের কারণে তার সওয়াব অব্যাহত থাকে।
মানুষের জীবন নানা পরীক্ষা ও বিপদে পরিপূর্ণ। কারও পরীক্ষা আসে অর্থ-সম্পদের সংকটে, কারও জীবনে আসে শারীরিক অসুস্থতা কিংবা অন্য কোনো দুর্ভোগের মাধ্যমে। একজন মুমিন এসব পরিস্থিতিকে আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা হিসেবে গ্রহণ করে ধৈর্য ধারণ করলে তা তার জন্য সওয়াবের কারণ হতে পারে।
হাদিসে এসেছে, মানুষকে তার দ্বীন ও ঈমানের শক্তি অনুযায়ী পরীক্ষা করা হয়। কারও দ্বীন যত দৃঢ়, তার পরীক্ষা তত কঠিন হতে পারে। আর দ্বীনের ক্ষেত্রে দুর্বলতা থাকলে তাকে সেই অনুপাতে পরীক্ষা করা হয়। (তিরমিজি : ২৩৯৮)।
তবে অসুস্থতাকে কল্যাণের পথে পরিণত করার জন্য প্রয়োজন আল্লাহর ওপর দৃঢ় ঈমান, আন্তরিক নিয়ত এবং বিপদের সময়ে ধৈর্য। তখন শারীরিক কষ্টও একজন মুমিনের জন্য গুনাহ মোচন, মর্যাদা বৃদ্ধি ও সওয়াব অর্জনের উপলক্ষ হয়ে উঠতে পারে।