
রাজধানীর রামপুরায় এক শিশু শিক্ষার্থীকে পাশবিক নির্যাতন (বলাৎকার) ও পরবর্তীতে তাকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার লোমহর্ষক ঘটনায় শিহাব হোসেন (১৯) নামে এক মাদ্রাসাছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পাবনার বেড়া উপজেলার প্রত্যন্ত খাকছাড়া গ্রাম থেকে রামপুরা থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল তাকে খাঁচায় বন্দি করে।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, গত ১৯ মে রাত আনুমানিক ১০টার দিকে রামপুরা থানাধীন বনশ্রী সি-ব্লকের ‘আলোকিত কুরআন ইন্টারন্যাশনাল হিফজ মাদ্রাসা’ থেকে মো. আব্দুল্লাহ (১০) নামের এক শিশু শিক্ষার্থীর গলায় গামছা পেঁচানো ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির সময় শিশুটির পায়ুপথে অমানুষিক ও অস্বাভাবিক যৌনাচারের স্পষ্ট আলামত দেখতে পান তদন্তকারীরা।
অভিযুক্ত শিহাবের অন্ধকার অতীত
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের মুখে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এক বিস্ফোরক তথ্য ফাঁশ করে। তারা জানায়, অভিযুক্ত শিহাব হোসেনের বিরুদ্ধে এর আগেও ওই মাদ্রাসার আরও অন্তত চারজন শিশু শিক্ষার্থীর সঙ্গে জোরপূর্বক অস্বাভাবিক যৌনাচার করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। এই জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে শিহাবের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে।
রামপুরা থানা পুলিশ ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) এর ৯(১) ধারায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করে।
পলাতক আসামিকে পাবনা থেকে গ্রেপ্তার ও নতুন মামলা
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নির্যাতিত শিশু আব্দুল্লাহ আত্মহত্যা করার পূর্বেই চতুর শিহাব মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে পাবনায় নিজের গ্রামের বাড়িতে আত্মগোপন করেছিল। খবর পেয়ে রামপুরা থানার একটি চৌকস দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে পাবনার বেড়া উপজেলার খাকছাড়া গ্রাম থেকে তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
এদিকে, এই পৈশাচিক ঘটনার রেশ ধরে গত ২০ মে নিহত আব্দুল্লাহর মা টুকু আরা খাতুন বাদী হয়ে প্রধান অভিযুক্ত শিহাব হোসেন এবং অজ্ঞাতনামা আরও বেশ কয়েকজনকে আসামি করে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে আরেকটি পৃথক মামলা দায়ের করেন। নতুন এই মামলাটিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের পাশাপাশি দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় অভিযোগ যুক্ত করা হয়েছে।