
টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজন এবং শিক্ষার্থীদের নিয়ে নিজের মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে সমালোচনার মুখে অবশেষে দুঃখ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় সোমবার অনুষ্ঠিত পদার্থবিজ্ঞান প্রথমপত্র, হিসাববিজ্ঞান প্রথমপত্র ও যুক্তিবিদ্যা প্রথমপত্রের পরীক্ষা পুনরায় নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত মন্তব্য নিয়ে অনেকেই আপত্তি জানিয়েছেন। আমি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাউকে কিছু বলিনি। তারপরও কেউ যদি আহত হয়ে থাকেন, আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।’
তিনি জানান, অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে সোমবারের পরীক্ষায় অনেক শিক্ষার্থী ভোগান্তির শিকার হয়েছে এবং এ বিষয়ে বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগ বিবেচনায় নিয়ে সোমবার অনুষ্ঠিত পদার্থবিজ্ঞান প্রথমপত্র, হিসাববিজ্ঞান প্রথমপত্র ও যুক্তিবিদ্যা প্রথমপত্রের পরীক্ষা পুনরায় আয়োজনের সুযোগ রয়েছে। শিক্ষা বোর্ড নতুন প্রশ্নপত্রে স্থগিত পরীক্ষাগুলো নেওয়ার সময় প্রয়োজন হলে এ পরীক্ষাগুলোও আবার নেওয়া যেতে পারে বলে জানান তিনি।
সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষা আয়োজনের আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সারাদেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে। এ সময় ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার, আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতামত ও আবহাওয়ার পূর্বাভাসের ভিত্তিতেই পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, বন্যা পরিস্থিতির কারণে পর্যায়ক্রমে রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং পরে পুরো চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। তবে অন্য শিক্ষা বোর্ডগুলো থেকে পরীক্ষা গ্রহণে বড় ধরনের কোনো সমস্যা হবে না বলেই প্রশাসন জানিয়েছিল।
কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার দিন সকালে কেন্দ্রের মাঠে পানি জমে যাওয়ার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও সিটি করপোরেশনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে পরীক্ষার্থীদের নৌকায় করে কেন্দ্রের ভবনে নিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়। একজন পরীক্ষার্থীর পোশাক ভিজে যাওয়ায় তাকে পোশাক পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া হয় এবং ওই কেন্দ্রে পরীক্ষা এক ঘণ্টা বিলম্বে শুরু করে অতিরিক্ত এক ঘণ্টা সময়ও দেওয়া হয়।
সংসদে প্রশ্ন করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যেও এইচএসসি পরীক্ষা না পেছানোর কারণ জানতে চান এবং শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের বিষয়টি তুলে ধরেন।
জবাবে শিক্ষামন্ত্রী দাবি করেন, কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্র ছাড়া দেশের অন্য কোথাও দুর্যোগের কারণে পরীক্ষা গ্রহণে উল্লেখযোগ্য সমস্যা হয়নি বলে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছেন।