
দেশে শিকলমুক্ত গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশের ওপর চাপিয়ে দেওয়া শেকল ভেঙে দিয়েছে। তবে স্বাধীনতার ৫৫ বছরেরও বেশি সময় পরও বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্র ও জনগণের ওপর শেকল চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে যেন আর কেউ রাষ্ট্রকে সেই অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে না পারে, সে লক্ষ্যেই শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সচিবালয়ে ‘শিকল ভাঙার জুলাই’ শীর্ষক প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশের বয়স ৫৫ বছরের বেশি হয়ে গেলেও বারবার জনগণের কণ্ঠ ও অধিকারকে শিকলে বাঁধা হয়েছে। এই প্রতিবন্ধকতার শিকল ভাঙতে বারবার আমাদের রক্ত দিতে হয়েছে, প্রাণ বিসর্জন দিতে হয়েছে এবং দেশের স্বাভাবিক সমৃদ্ধির প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে। পৃথিবীর যে দেশগুলো ধারাবাহিক সমৃদ্ধি বজায় রাখতে পেরেছে, তারাই আজ বিশ্বে অন্যতম প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়েছে।’
অতীতের আন্দোলনের সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পার্থক্য তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘অতীতে বিভিন্ন আন্দোলন কেবল অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া ও গণঅভ্যুত্থানেই শেষ হতো। পরে লক্ষ্যহীনভাবে তা হারিয়ে গিয়ে আবার নতুন কোনো ফ্যাসিবাদের পথ সুগম করত। কিন্তু এবার আমরা যখন ফ্যাসিবাদের শিকল ভাঙার গান গেয়েছি, তখনই দেশ গড়ার পরিকল্পনাও করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘রক্ত ও প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত এই অর্জন জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে পুরোনো ব্যবস্থা দিয়ে সম্ভব নয়। সে কারণেই আমরা রাষ্ট্র কাঠামো ও রাজনীতি মেরামতের কথা বলেছি।’
তথ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতের কোনো রাজনৈতিক আন্দোলনে সংগ্রামের আগে সুস্পষ্ট কোনো রূপরেখা ছিল না। এমনকি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তহীনতার একপর্যায়ে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর বাঙালি কর্মকর্তা মেজর জিয়াউর রহমানকে ঐতিহাসিক স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, শিকল ভাঙার পর রাষ্ট্রকে কীভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে, সেই রূপরেখা আগেই ৩১ দফার মাধ্যমে নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন তাদের নেতা তারেক রহমান। সরকার এখন সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথেই এগিয়ে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘শিকল ভাঙার জুলাই’ প্রকাশনায় ২৩ জন লেখকের লেখা সংকলিত হয়েছে। বইটির নিবন্ধ ও আলোকচিত্রের মাধ্যমে আবেগঘনভাবে জুলাইয়ের ইতিহাস তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, জুলাইকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতেও নতুন নতুন প্রকাশনা, তথ্যচিত্র এবং রিলস প্রকাশ করা হবে।