
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) আনুষ্ঠানিকভাবে এ তফসিল প্রকাশ করে কমিশন।
নির্বাচন কমিশনের সচিব জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১-এর ৫(৩) ধারা অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে এই নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ করেছেন। নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব ভবন এবং জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষকে কেন্দ্র করে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সম্পন্ন হবে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৩ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। ১৬ আগস্ট (রোববার) সকাল ১০টা থেকে নির্বাচন কমিশন ভবনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হবে। ১৮ আগস্ট (মঙ্গলবার) বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে। আর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২০ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে।
ইসি সচিব আরও জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর কমিশনের পরবর্তী প্রশাসনিক কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হবে। আপাতত শুধু নির্বাচনের তফসিল প্রকাশ করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে হালনাগাদ তথ্য ও নির্বাচনী অগ্রগতির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে অবহিত করা হবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় ভোটার তালিকা সংসদ সচিবালয় থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হয়েছে। সেই তালিকা পাওয়ার পরই তফসিল ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জানা গেছে, সংসদ সদস্যদের গোপন ভোটে দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। এ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত আইন ও সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
গত ২৪ জুলাই দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে নির্বাচন কমিশন। সংবিধান অনুযায়ী এ নির্বাচন আয়োজনের অংশ হিসেবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন।
উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কেবল সংসদ সদস্যরাই ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। সে কারণেই সংসদ সদস্যদের তালিকার ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা প্রকাশ করে।