
দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী, সমন্বিত ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করতে পুনর্গঠিত জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটির (এনসিএসসি) প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল ১১টায় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম, এমপি। প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
সভায় মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, দেশের বিমান খাতের নিরাপত্তা নিশ্চিতে জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটির ১৩তম সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি জানান, শিগগিরই আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) নিরাপত্তা নিরীক্ষা (অডিট) অনুষ্ঠিত হবে। এ অডিটের সঙ্গে দেশের ভাবমূর্তি জড়িত উল্লেখ করে সম্ভাব্য সব পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে আইসিএওর মানদণ্ড অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ প্রতিপালন (কমপ্লায়েন্স) নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, ভিআইপি, সিআইপিসহ সবার জন্য নিরাপত্তা প্রোটোকল সমানভাবে প্রযোজ্য। তাই বিমানবন্দরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে একই নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য উন্নত যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বিমানবন্দর এলাকায় অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়ন ঠেকাতে অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রায় তিন বছর পর অনুষ্ঠিত এই সভার সিদ্ধান্তগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি ও স্ক্যানার প্রয়োজনীয় সংখ্যার চেয়েও পর্যাপ্ত পরিমাণে সংরক্ষণ করতে হবে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
সভায় দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর, সমন্বিত ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডসম্মত করতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে তথ্য বিনিময় ও সমন্বয় জোরদার, জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন, আইসিএওর নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ, বিমানবন্দরে আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি সংযোজন, বিদ্যমান নিরাপত্তা নীতিমালা পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে মতবিনিময় করা হয়।
এছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবেশপথে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা, গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে স্থাপিত আন্ডার ভেহিকেল স্ক্যানিং সিস্টেম (ইউভিএসএস)-এর কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং দেশের সব বেসামরিক বিমানবন্দরে কনটিনজেন্সি ও ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় আরও বলা হয়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ল্যান্ডসাইড এলাকায় যানজট, অনিয়ন্ত্রিত লোকসমাগম, ভিক্ষুকের উপদ্রব এবং অবৈধ লাগেজ র্যাপিং কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে বেবিচক, এপিবিএন, পুলিশ, আনসার ও বিমানবন্দর ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও সুপারিশ করা হয়, যাতে যাত্রীসেবা, শৃঙ্খলা এবং বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা আরও উন্নত হয়।রও উন্নত হয়।