
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশজুড়ে দীর্ঘদিনের যুদ্ধের মেঘ কি তবে কাটতে চলেছে? ওয়াশিংটনের দেওয়া সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ফিরতি বার্তা পাঠিয়েছে তেহরান।
রোববার (১০ মে) মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে এই জবাব পাঠানো হয়েছে বলে ইরানি সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ এবং কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
প্রথম শর্ত: শত্রুতা বন্ধ
আল জাজিরার ইসলামাবাদ প্রতিনিধি কামাল হায়দার জানিয়েছেন, পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের হাতে ইরানের পক্ষ থেকে একটি লিখিত বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনার প্রথম ধাপ হিসেবে ইরান সংঘাত বা শত্রুতা পুরোপুরি বন্ধের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্বারোপ করেছে। এখন সবার নজর ইসলামাবাদের দিকে—কখন এই বার্তাটি হোয়াইট হাউসের কাছে হস্তান্তরিত হয় এবং এর জবাবে মার্কিন প্রশাসন কী প্রতিক্রিয়া দেখায়।
অচলাবস্থা কাটাতে ১৪ দফার নতুন ছক
সংঘাত নিরসনে এর আগেও উভয় পক্ষ একাধিক প্রস্তাব বিনিময় করলেও কোনো ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। সেই রাজনৈতিক অচলাবস্থা ভাঙতে গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন তেহরানের কাছে ১৪ দফার একটি নতুন খসড়া প্রস্তাব পাঠায়। যদিও গত শুক্রবারের মধ্যে এর উত্তর প্রত্যাশা করা হয়েছিল, তবে ইরান কিছুটা বাড়তি সময় নিয়ে আজ তাদের চূড়ান্ত অবস্থান পরিষ্কার করল। উল্লেখ্য যে, গত ১১ ও ১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও তা কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয়েছিল।
সংঘাতের পটভূমি ও বিশ্ব অর্থনীতির ঝুঁকি
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে এই ছায়া যুদ্ধের সূচনা হয়। প্রতিশোধ হিসেবে ইরানও ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আঘাত হানে। গত কয়েক মাসের এই ধারাবাহিক লড়াইয়ের ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
ট্রাম্পের চীন সফর ও আন্তর্জাতিক চাপ
আগামী সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বহুল আলোচিত চীন সফর শুরু হতে যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই গুরুত্বপূর্ণ সফরের আগেই মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত থামানোর জন্য হোয়াইট হাউসের ওপর ব্যাপক আন্তর্জাতিক চাপ রয়েছে। কারণ, এই যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এক বড় ধরনের ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরানের বর্তমান জবাবের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী শান্তি প্রক্রিয়ার ভাগ্য এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা নির্ধারিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: আইআরএনএ ও আল জাজিরা।