
নির্বাচন ঘিরে কড়াকড়ির মধ্যেই লক্ষ্মীপুরের ঝুমুর এলাকায় সেনাবাহিনীর চেকপোস্টে একটি গাড়ি থেকে ১৫ লাখ টাকা জব্দের ঘটনা ঘটেছে। পরে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্টদের ছেড়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ ওঠে টাকা উদ্ধার হওয়া গাড়িটি ধানের শীষের প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির প্রচারণা কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে শহরের ঝুমুর চত্বর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জব্দ হওয়া গাড়িটি নির্বাচনি কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে জানিয়েছেন লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। রাত সাড়ে ৯টার দিকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ঘটনার পর নির্বাচন অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সদস্য এবং লক্ষ্মীপুর যুগ্ম জজ আদালত-২–এর বিচারক তাহরিনা আক্তার নওরিন আদালত পরিচালনা করেন। গাড়িতে থাকা কৃষক দল নেতা শ্যামলসহ তিনজনকে আদালতে নেওয়া হয়। শ্যামল জেলা কৃষক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং শহরের আল-আমিন মেডিকেল হলের মালিক।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নির্বাচন অনুসন্ধান টিম সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনী নিরাপত্তার অংশ হিসেবে ঝুমুর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চেকপোস্ট বসানো ছিল। এ সময় নির্বাচনকালীন ব্যবহৃত একটি গাড়ি (ঢাকা মেট্টো-ঘ ১৭-১৩৭৭) তল্লাশি করে ১৫ লাখ টাকা জব্দ করা হয়। পরে সংশ্লিষ্টদের জজ আদালতের ৪র্থ তলায় নেওয়া হয়। সেখানে বিচারক তাহরিনা আক্তার নওরিন অভিযুক্তদের আধা ঘণ্টার মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন। শুনানি শেষে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, “আমি নির্বাচনি কাজে ব্যস্ত রয়েছে। আমার নির্বাচনী কাজে ব্যবহৃত গাড়ি চেক করা হয়েছে। প্রকৃত পক্ষে ঘটনাটি হয়েছে আমার নির্বাচনি এজেন্ট গাড়ি নিয়ে বিভিন্ন কেন্দ্রে যাচ্ছেন। সেখানে যে ব্যয় তন্মেধ্যে ১৫ লাখ টাকা কেন্দ্রভিত্তিক দেওয়ার জন্য আমার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি নিয়ে যাচ্ছিলেন। কোর্ট থেকেও তা ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এটি কেন্দ্র খরচ ছিল।”
অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ রেজাউল হক বলেন, “ঝুমুর মোড়ে সেনাবাহিনীর চেক পোস্ট চলছে। গাড়িটি চেক করে টাকাভর্তি ব্যাগ পেয়ে সেনাবাহিনী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে জানিয়েছে। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট পরিচালনা করে দেখেন যে সেখানে ১৫ লাখ টাকার মতো ছিল। যেহেতু এটি নির্বাচনি ফান্ডের টাকা এবং সব বৈধ কাগজপত্র আছে, বাজেটের ভেতরের টাকা, এতে বিনাশর্তে কোনো ধরনের জরিমানা ছাড়াই বিচারক তাদেরকে ছেড়ে দিয়েছে।”