
বৈরী আবহাওয়া ও কূটনৈতিক টানাপড়েনের মাঝেই মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননজুড়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর (আইডিএফ) নতুন করে চালানো ভয়াবহ বিমান হামলায় বেশ কয়েকজন শিশুসহ অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও তীব্র করার ঘোষণা দেওয়ার পরপরই এই রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনা ঘটল। কাতারভিত্তিক ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে এটি অন্যতম ভয়াবহ ও বেসামরিক এলাকায় চালানো নির্বিচার হামলা, যেখানে নারী ও শিশুরাই সবচেয়ে বেশি হতাহত হয়েছে।
যুদ্ধবিরতির পর ভয়াবহতম বোমাবর্ষণ
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, গত এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে মার্কিন মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছিল। তবে সেই যুদ্ধবিরতি উপেক্ষা করেই গত সোমবার রাত থেকে তারা হিজবুল্লাহর ১০০টিরও বেশি কৌশলগত অবকাঠামো এবং যোদ্ধাদের অবস্থান লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে। আইডিএফের দাবি, যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে এটিই ছিল লেবাননে তাদের চালানো সবচেয়ে বড় ও ভয়াবহ বোমাবর্ষণের ঘটনা।
গত সোমবার (২৫ মে) ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, তিনি হিজবুল্লাহকে লক্ষ্যবস্তু করার ক্ষেত্রে এবং তাদের দমনে আইডিএফকে ‘আরও কঠোর পদক্ষেপ’ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল মঙ্গলবার (২৬ মে) ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে বলেন, “ইসরায়েল লেবাননে আমাদের সামরিক অভিযান আরও তীব্র করছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বর্তমানে লেবাননের স্থলভাগে বিশাল সৈন্য ও আধুনিক সামরিক বহর নিয়ে কাজ করছে এবং হিজবুল্লাহর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ইতিমধ্যে দখল করে নিয়েছে। উত্তর ইসরায়েলের সীমান্ত সংলগ্ন জনবসতিগুলোকে হিজবুল্লাহর রকেট হামলা থেকে চিরতরে রক্ষা করার জন্য তারা লেবাননের অভ্যন্তরে ‘নিরাপত্তা অঞ্চলকে আরও শক্তিশালী’ করছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, লেবানন ও ইসরায়েল—উভয় পক্ষই গত কয়েক সপ্তাহে বারবার যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী যুদ্ধ অবসানের জন্য যে জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি আলোচনা চলছিল, তা পুরোপুরি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলে গতকাল মঙ্গলবার (২৬ মে) এই চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই দক্ষিণ ইরানে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং পারস্য উপসাগরের সমুদ্রপথে মাইন পুঁতে রাখার চেষ্টায় থাকা ইরানি নৌযানকে লক্ষ্য করে মার্কিন বিমান বাহিনী এই বিশেষ অপারেশন পরিচালনা করেছে। লেবানন ও ইরানে এই জোড়া হামলার পর পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এখন নতুন করে বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।