
ভোলার লালমোহন উপজেলায় জমি বিরোধের জেরে মো. কামাল ফরাজী নামে ৬৫ বছরের এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার সকালে উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কচুয়াখালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে তিনি লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযোগ করে কামাল ফরাজী বলেন, পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের কচুয়াখালী মৌজার এসএ খতিয়ানের ১৪৬ ও ১৪৯ নম্বর দাগে প্রায় ৪৬ বছর আগে ৫ একর ১৪ শতাংশ জমি ক্রয় করি। এরপর সেখানে ঘর নির্মাণ করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বসবাস করছি। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মহিষখালি এলাকার মৃত মো. শাহজানের স্ত্রী কহিনুর বেগম আমার ওই জমির ভেতর তারও ২০ শতাংশ জমি রয়েছে বলে দাবি করেন। এরপর তিনি ভোলা কোর্টে একটি মামলা করেন। ওই মামলাটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তবে এরমধ্যে কহিনুর বেগমের নাতিন জামাই মো. রাসেল আমাকে ওই জমি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা চালায়। রাসেল পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গজারিয়া এলাকার বড়মিয়া বাড়ির মো. কামাল মাতাব্বরের ছেলে।
তিনি আরও বলেন, শনিবার সকালে আমি জমি থেকে কিছু ডাল ও মরিচ তুলে আনি। খবর পেয়ে ছুটে আসেন রাসেল। এরপর ডাল ও মরিচ নিয়ে তার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সে আমাকে দা দিয়ে কুপিয়ে ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে ফেলে রাখে। পরে স্বজনরা এগিয়ে এসে আমাকে উদ্ধার করে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এরআগেও আমাকে মারধর করেছে রাসেল। তখন থানায় একটি জিডি করেছি। আমি রাসেলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করছি।
অভিযোগের ব্যাপারে মো. রাসেল জানান, ওই জমি আমার দাদি শাশুড়ির। তার কাছে জমির দলিলও রয়েছে। যার জন্য ওই জমিতে আমি চাষাবাদ করেছি। শনিবার জমি থেকে তিনি মরিচ ও ডাল তুলে নেন। এর কারণ জানতে চাইলে তিনি আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন। যার জন্য তাকে আমি লাঠি দিয়ে একটি আঘাত করেছি। এরপর স্থানীয়রা আমাকে সেখান থেকে সরিয়ে দেন।
এ ব্যাপারে লালমোহন থানার ওসি মো. অলিউল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।