
আর্জেন্টিনার একটি বিমানবন্দরে অতিরিক্ত ব্যাগেজের মাশুল দেওয়া নিয়ে সৃষ্টি হলো এক নজিরবিহীন ও তুলকালাম কাণ্ড। নিয়ম ভেঙে অতিরিক্ত মালপত্রের ফি পরিশোধ না করে উল্টো বিনা অনুমতিতে বিমানে চড়ে বসেন এক নারী যাত্রী। পরবর্তীতে তাঁকে বিমান থেকে নামাতে গেলে কর্তব্যরত এক নারী পুলিশ কর্মকর্তাকে দাঁত দিয়ে কামড়ে দেন তিনি। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের কল্যাণে এখন বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘নিউইয়র্ক পোস্ট’-এর একটি বিশেষ প্রতিবেদনে এই বিস্ফোরক তথ্যটি প্রকাশ্যে আনা হয়েছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, ঘটনাটি ঘটেছে আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস এইরেসের ‘জর্জ নিউবেরি এয়ারপার্ক’ নামক বিমানবন্দরে। বাজেট এয়ারলাইন্স ‘জেটস্মার্ট’-এর কর্ডোবা-গামী একটি ফ্লাইটে চড়ার কথা ছিল ওই নারী যাত্রীর। তবে বোর্ডিংয়ের সময় দেখা যায়, তাঁর হাতের কেবিন ব্যাগেজটি নির্ধারিত ওজনের সীমার চেয়ে অনেক বেশি ভারী। নিয়ম অনুযায়ী এয়ারলাইন্স কর্মীরা তাঁকে অতিরিক্ত লাগেজের জন্য নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে বললে তিনি তা দিতে সাফ মানা করে দেন।
এই পাওনা ফি নিয়ে বোর্ডিং গেটেই দায়িত্বরত কর্মীদের সাথে ওই নারীর তীব্র কথা-কাটাকাটি শুরু হয় এবং একপর্যায়ে পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উত্তেজনার মাঝেই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কোনো রকম অনুমতি বা তোয়াক্কা না করেই তিনি জোরপূর্বক বিমানের ভেতরে ঢুকে নিজের আসনে বসে পড়েন। বিষয়টি বেগতিক দেখে বিমানের ভেতরে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে বিমানবন্দর নিরাপত্তা পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল বিমানের ভেতরে প্রবেশ করে ওই অবাধ্য নারী যাত্রীকে বিমান থেকে নেমে যাওয়ার অনুরোধ করেন। তবে তিনি পুলিশের সাথে কোনো ধরনের সহযোগিতা না করায় পরিস্থিতি দ্রুত আরও জটিল আকার ধারণ করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আসন থেকে জোরাজুরি করে নামানোর চেষ্টা করতেই পুলিশ সদস্যদের সাথে ওই নারীর প্রচণ্ড ধস্তাধস্তি শুরু হয়।
এই হট্টগোলের একপর্যায়ে ওই নারী চরম আক্রমণাত্মক হয়ে এক নারী পুলিশ কর্মকর্তাকে সজোরে কামড়ে দেন। বিমানের ভেতরে এমন হিংস্র ও অনাকাঙ্ক্ষিত কাণ্ড দেখে আশেপাশের অন্য সাধারণ যাত্রীরা চরম বিস্মিত ও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। দীর্ঘক্ষণের ধস্তাধস্তি ও মরিয়া চেষ্টার পর অবশেষে পুলিশ ওই নারীকে বিমান থেকে টেনেহিঁচড়ে নামাতে সক্ষম হলে, স্বস্তিতে বিমানের অন্য যাত্রীরা হাততালি দিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যাত্রীর এমন তাণ্ডবের কারণে কর্ডোবা-গামী ফ্লাইটটি উড্ডয়নে সাময়িকভাবে কিছুটা বিলম্বিত হলেও, পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে তা নির্ধারিত গন্তব্যের উদ্দেশ্যে বিমানবন্দর ছেড়ে যায়।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ধস্তাধস্তির সময় অভিযুক্ত ওই নারী সামান্য আঘাত পেয়েছেন। তাই আইনি প্রক্রিয়ার আগে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য তাকে বিমানবন্দরের নিজস্ব ক্লিনিকে নেওয়া হয়। বর্তমানে ওই নারীকে পুলিশের হেফাজতে আটকে রাখা হয়েছে এবং পুরো ঘটনার আনুষ্ঠানিক তদন্ত চলছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ঠিক কী কী গুরুতর আইনি অভিযোগ আনা হবে, সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
এই অদ্ভুত ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে বিমানযাত্রীদের ক্রমবর্ধমান আক্রমণাত্মক আচরণ এবং লাগেজ ফি নিয়ে সৃষ্টি হওয়া নিত্যদিনের বিরোধের বিষয়টিকে নতুন করে বিতর্কের টেবিলে নিয়ে এসেছে। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামান্য আর্থিক অসঙ্গতিও যে কত দ্রুত একটি বড় ধরনের নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিতে পারে, এই ঘটনা তারই এক জলজ্যান্ত উদাহরণ। ভবিষ্যতে এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বোর্ডিং প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং যাত্রীদের আচরণবিধি আরও কঠোরভাবে পুনর্মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।