
যুক্তরাজ্যের টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলর সাবিনা খান বাংলাদেশের সিলেট থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় বার্ষিক ২০,৬০০ পাউন্ড ভাতা (প্রায় ৩৪ লাখ ৫৩ হাজার টাকা) গ্রহণ করছেন। বিষয়টি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। খবর জিবিএন নিউজের।
সাবিনা খান, যিনি পূর্ব লন্ডনের মাইল এন্ড ওয়ার্ডের কাউন্সিলর, গত মে মাসে বাংলাদেশে আসার পর বেশিরভাগ সময় সেখানেই অবস্থান করছেন। তার বাৎসরিক ভাতার মধ্যে রয়েছে কাউন্সিলর হিসেবে ১১,৮৯৮ পাউন্ড এবং স্ক্রুটিনি লিড ফর রিসোর্সেস হিসেবে অতিরিক্ত ৮,৭০২ পাউন্ড, যেখানে কাউন্সিলের ব্যয় ও সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার দায়িত্ব থাকে।
সাবিনা খান অনলাইনে কিছু সভায় অংশ নিলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তিনি দূর থেকে যুক্ত, প্রতিনিধি পাঠিয়ে উপস্থিতি দেখিয়েছেন বা একেবারেই অনুপস্থিত ছিলেন। এক কাউন্সিলর অভিযোগ করেন, “তিনি যখন অনলাইনে সভায় যুক্ত হচ্ছেন, তা স্পষ্ট—বাংলাদেশে নিজের বাড়ির বারান্দা থেকে করছেন। এটা রীতিমতো কেলেঙ্কারি।” অন্য কাউন্সিলররা এটিকে “অবিশ্বাস্য” ও “লজ্জাজনক” বলে মন্তব্য করেছেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেটের গোলাপগঞ্জ–বিয়ানীবাজার আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেতে চেষ্টা করেছিলেন সাবিনা খান। তবে গত নভেম্বর তার আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি দাবি করেন, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল থেকে পদত্যাগ করেছেন এবং বাংলাদেশে জনসেবায় মনোযোগ দিচ্ছেন। বাস্তবে কাউন্সিলের কাছে তার কোনো পদত্যাগপত্র পৌঁছায়নি, বরং ওই মাসের শেষে তাকে আবার কাউন্সিলে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।
বাংলাদেশে পারিবারিক শিকড় থাকায়, লন্ডনের অন্যান্য বাসিন্দার মতো সাবিনা খানও নির্বাচনী প্রচারণার জন্য বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। তার সঙ্গে অন্য কাউন্সিলর ওহিদ আহমেদও এই প্রচারণায় অংশ নেন, কিন্তু প্রাথমিক মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় কেউই সফল হননি। ব্যর্থ হওয়ার পর ওহিদ লন্ডনে ফিরে স্বাভাবিক দায়িত্বে যোগ দিলেও সাবিনা খান বাংলাদেশেই রয়েছেন।
উল্লেখ্য, মেয়র লুতফুর রহমানের নেতৃত্বাধীন অ্যাসপায়ার পার্টি নিয়ন্ত্রিত টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগে সমালোচিত। ২০১৫ সালে নির্বাচনী দুর্নীতির দায়ে লুতফুর রহমান পাঁচ বছরের জন্য রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ হলেও, নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর ২০২২ সালে তিনি আবার মেয়র নির্বাচিত হন।
চলতি জানুয়ারি মাসে এক টাউন হল বৈঠকে কাউন্সিল স্পষ্ট জানায়, বিদেশে রাজনৈতিক পদে নির্বাচন করা “অগ্রহণযোগ্য”। তবে একই সঙ্গে বলা হয়েছে, সাবিনা খান এখনও তার এলাকার বাসিন্দাদের প্রতি দায়বদ্ধ। কাউন্সিলের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “মনিটরিং অফিসার সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলরদের জানিয়েছে যে, অন্য দেশে রাজনৈতিক পদে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য নয় এবং কাউন্সিলরদের অবশ্যই নিজ এলাকায় পূর্ণ মনোযোগ দিতে হবে। সাবিনা খান তার দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”