
লক্ষ্মীপুরে ‘আইনের লোক’ পরিচয় দিয়ে রঞ্জু নামে এক প্রবাস ফেরত যুবককে ঘর থেকে তুলে নিয়ে অস্ত্র ও মাদক দিয়ে ফাঁসানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।
রোববার (৭ জুন) বিকেলে লক্ষ্মীপুর জেলা শহরের একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী রঞ্জুর পরিবার এই দাবি করেন।
ভাত খাওয়া অবস্থায় তুলে নেওয়ার অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী রঞ্জুর স্ত্রী মুন্নী আক্তার ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, গত ৫ জুন সন্ধ্যায় তার স্বামী ঘরে ভাত খাচ্ছিলেন। এ সময় যুবদল নেতা ফরিদ উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল লোক ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং নিজেদের ‘আইনের লোক’ হিসেবে পরিচয় দেয়।
রঞ্জুর স্ত্রীর অভিযোগ, ভাত খাওয়া অবস্থাতেই রঞ্জুকে মারধর করে রশি দিয়ে বেঁধে বাড়ির সবার সামনে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। অপহরণের সময় ফরিদ ও তার অনুসারীরা ঘর থেকে ১ লাখ টাকা মূল্যের দুটি মোবাইল ফোন এবং দেড় ভরি স্বর্ণালংকার লুটে নেয়। এরপর সন্ধ্যায় তুলে নেওয়া হলেও রাত ১১টার দিকে পালেরহাট বাজারে নিয়ে রঞ্জুকে পুনরায় বেদম মারধর করা হয়। পরে তার কাছে অস্ত্র ও মাদক সাজিয়ে ভিডিও ধারণ করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার দাবি পরিবারের
রঞ্জুর বাবা ইউসুফ মিয়া জানান, তার ছেলে মাত্র ৬ মাস আগে বিদেশ থেকে এসেছেন এবং পুনরায় অন্য দেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তিনি বলেন, “আমার ছেলে আগে এক সময় আওয়ামী লীগের লোকজনের সাথে চলাফেরা করতো। এই রাজনৈতিক শত্রুতার জের ধরেই ফরিদ আমার ছেলেকে অস্ত্র ও মাদক দিয়ে সম্পূর্ণ মিথ্যাভাবে ফাঁসিয়ে দিয়েছে।”
রঞ্জুর মা শাহিনুর বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,“আমি ফরিদের পায়ে ধরেও আমার ছেলেকে বাঁচাতে পারিনি। সে যদি কোনো অপরাধ করে থাকে, তবে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। প্রশাসনের কাজ ফরিদের মতো সন্ত্রাসীরা কেন করবে?”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত কয়েকজন প্রতিবেশী নারী প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে জানান, রঞ্জুকে যখন ঘর থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন তার কাছে কোনো ধরনের অবৈধ অস্ত্র বা মাদক ছিল না। ফরিদের নির্দেশ বা অবাধ্য হলেই এলাকায় সাধারণ মানুষকে এভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন এবং নিরপরাধ রঞ্জুর অবিলম্বে মুক্তির জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এই বিষয়ে অভিযুক্ত যুবদল নেতা ফরিদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তার তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।