
রাজধানীতে সড়ক দুর্ঘটনা, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নবজাতকের মৃত্যু, দম্পতির ঝুলন্ত মরদেহ এবং ঢাবি এলাকা থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধারসহ গত ৩০ ঘণ্টায় পৃথক ঘটনায় মোট ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যু, ভাটারা এলাকায় বাস সংঘর্ষে ৪ জন, মিরপুরে এক দম্পতির লাশ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে।
ভাটারা থানার নর্দা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন আজিজ সড়কের সামনে গত ২৭ মে (মঙ্গলবার) সকাল আনুমানিক ৬টা ৫ মিনিটের দিকে দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হন। ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম জানান, বরিশাল থেকে কুড়িল বিশ্বরোডগামী ‘ইসলাম পরিবহন’-এর একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রোড ডিভাইডার অতিক্রম করে বিপরীত দিক থেকে আসা সদরঘাটগামী ‘আকাশ পরিবহন’-এর একটি বাসকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে আকাশ পরিবহনের যাত্রী লাইজু বেগম (৩৮) ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে খুশি বেগম (৩৫) ও রবিউলকে এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কবির জমাদ্দারকে (৪৭) মৃত ঘোষণা করা হয়। নিহতদের মধ্যে কবির জমাদ্দার ও লাইজু বেগম স্বামী-স্ত্রী এবং খুশি বেগম তাঁদের আত্মীয়। তাঁরা সবাই বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার বাসিন্দা। অপর নিহত রবিউল পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। এই ঘটনায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা হয়েছে, দুটি বাস জব্দ করা হয়েছে এবং চালক ও হেলপারদের খুঁজছে পুলিশ।
এদিকে ২৮ মে (বৃহস্পতিবার) দুপুরের দিকে মিরপুরের দারুসসালাম হরিরামপুর এলাকার একটি বাসা থেকে নূর মোহাম্মদ হৃদয় (২৫) ও তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ঝুম আক্তার (১৮)-এর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দারুসসালাম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) দেবব্রত কুমার বিশ্বাস জানান, প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের জেরে গালয় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। লাশ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
একই দিন সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার সলিমুল্লাহ হলের সামনের ফুটপাত থেকে আনুমানিক ৫০ বছর বয়সী এক অজ্ঞাতপরিচয় ভবঘুরে ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে শাহবাগ থানা পুলিশ। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, পথচারীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অচেতন অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। অসুস্থতাজনিত কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ২৭ মে রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একসঙ্গে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে চরম অব্যবস্থাপনা এবং এসি (শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র) বন্ধ থাকার কারণে শ্বাসকষ্টে নবজাতকগুলোর মৃত্যু হয়। ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম জানান, অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগ এনে এক নবজাতকের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করা হয়েছে। এর আগে স্বজনদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই ছয় নবজাতকের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।