
ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের পথে বিভাজন নয়, বরং সাম্য ও ঐক্যের বার্তা পৌঁছে দিতে চায় জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ—এমন মন্তব্য করেছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি দলটিকে অন্তত পাঁচ বছর সময় দিয়ে মূল্যায়নের আহ্বান জানান।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে রংপুরে আয়োজিত এক সমাবেশে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা বিভক্তির রাজনীতি করতে আসিনি। সাম্য ও ঐক্যের বার্তা নিয়েই আপনাদের কাছে এসেছি। অন্তত পাঁচটি বছর আমাদের পরীক্ষা করে দেখুন।’
গত ১৭ বছরে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের নাগরিক হিসেবে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষায়, অভ্যুত্থানের পর অনেক পরিবর্তনের আশা থাকলেও ফ্যাসিবাদের নানা চিহ্ন এখনও রয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, আগের সরকার আমলে জামায়াত সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হলেও গত দেড় বছরে দলটি কাউকে নির্যাতিত করেনি।
এ সময় তিনি বলেন, যারা একসময় নির্যাতিত হলেও অভ্যুত্থানের পর নিজেরাই জুলুমকারী হয়ে উঠেছেন, জনগণ তাদের জন্য ‘লাল কার্ড’ দেখাতে প্রস্তুত রয়েছে।
এর আগে বিকেলে ঠাকুরগাঁওয়ের এক জনসভায় জামায়াত আমির বলেন, ক্ষমতায় গেলে তিনটি শর্তে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়তে চায় জামায়াত। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, স্বাধীন বিচার বিভাগ নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে থাকা। তিনি জানান, একক কোনো দল নয়—জনগণের প্রতিনিধিরাই আগামী বাংলাদেশের বিনির্মাণে ভূমিকা রাখবেন।
নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী রংপুরের পাশাপাশি ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও দিনাজপুরে সমাবেশ করেছেন ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) তিনি রংপুরে আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে জনসভায় বক্তব্য দেবেন। এরপর গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও পাবনায় সফর শেষে ঢাকায় ফিরবেন। রোববার (২৫ জানুয়ারি) তিনি ঢাকা-৫, ৬ ও ৭ আসনে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেবেন।