
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় গভীর রাতের আবাসিক হোটেল “কুয়াকাটা গেস্ট হাউস” সংলগ্ন জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামের এক নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগকারী হোটেল মালিক ও কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এমএ মোতালেব শরীফ এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ তুলে জানান, তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। পরে ৯৯৯-এ কল দিয়ে পুলিশ সাহায্যে এসে পরিস্থিতি শান্ত করে। এ ঘটনায় মহিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত প্রায় ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, হোটেলের পেছনের অংশ দিয়ে হাজির হওয়া কিছু লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করে এবং সীমানা প্রাচীর ভেঙে জমি দখলের চেষ্টা চালায়। হোটেল কর্তৃপক্ষ বাধা দিলে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে ভয়ভীতি দেখানো হয়।
ভুক্তভোগী মালিক এমএ মোতালেব শরীফ কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “কুয়াকাটা গেস্ট হাউস সংলগ্ন ১২৬৪/১২৬২ ডি নং খতিয়ানে আমার বাবা মৃত্যুর পরে ৫৬/১৪ বণ্টন মোকদ্দমার মাধ্যমে বোনদের জমি দুই খতিয়ানের দক্ষিণ ভাগে ২০১৮ সালে আদালতের মাধ্যমে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আত্মীয় ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে ২০২৪ সালে আরও আদালতের আদেশ হয়েছে। তবে ৩ ফেব্রুয়ারি জাহানারা, শাহীনুর ও সাহেদা হোটেলের পেছনে ঢুকে ঘর তৈরি করার হুমকি দেয়। এরপর ৬ ফেব্রুয়ারির রাত ৩টার দিকে তারা সীমানা প্রাচীর ভেঙে হোটেল দখলের চেষ্টা চালায়। তখন ৯৯৯ নম্বরে কল দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।”
তিনি আরও জানান, “আমার বাবার মৃত্যুর পর বোনদের মধ্যে জমি বিক্রির এবং অর্থ লেনদেনের পরও দলিল হাতে পাইনি। এখন দলিল না দিয়ে জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে।”
অভিযুক্ত জামায়াত নেতা মো. শাহাবুদ্দিন ফরাজি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি কোনো জমি দখল করতে যাইনি। এখানে আমার মা ও খালারা তাদের ন্যায্য অংশ পাবে। দীর্ঘদিন ধরে আমরা আমাদের জায়গা ফিরে পেতে চেষ্টা করেছি, মামা বুঝিয়ে দেননি। তাই নিজেদের অংশ বুঝে নেওয়ার জন্য আমরা সেখানে গিয়েছি। আমরা কোনো অন্যায় করি নাই।”
মহিপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহব্বত খান জানান, “জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ ফোর্স পাঠিয়েছি। এটি জমি সংক্রান্ত বিরোধ, যা আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে। তবে সাময়িকভাবে উভয় পক্ষকে শান্ত রাখার চেষ্টা করেছি।”