
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় রহস্যের আবরণ কেটে উঠছে না। ১১ নম্বর বিহারী ক্যাম্পের ওয়াপদা ৩ নম্বর ভবনের নিজ বাসা থেকে দুই শিশু সন্তানসহ স্বামী-স্ত্রীর লাশ পাওয়া যায়। যদিও পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, মোহাম্মদ মাসুম (৩৫) প্রথমে স্ত্রী ফাতেমা আক্তার সুমি (৩০) ও দুই সন্তান মিনহাজ (৪) ও আসাদ (২)কে হত্যা করার পর নিজেই গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন, তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো অজানা।
শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে নিহত ফাতেমা আক্তার সুমির বড় ভাই নজরুল ইসলাম বলেন, “প্রায় ১৫ বছর আগে আমার বোন সুমির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে মাসুমের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই ছেলে ও একটি মেয়ে ছিল। গতকাল আমরা খবর পাই, আমার বোন, বোনজামাই ও দুই ভাগ্নে মারা গেছে।”
নজরুল ইসলাম আরও জানান, “মাসুম পেশায় অটো রিকশাচালক, বেশিরভাগ সময়ে সংসার চালাতেন। তিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন এবং কোনো অন্যায় কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন না। সংসারে কিছু অভাব-অনটন থাকলেও তিনি দায়িত্বশীল ছিলেন। তাদের ঋণও বর্তমানে শোধ হয়ে গিয়েছিল।”
তিনি বলেন, “আমার বোনের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তিন বছর আগে তার বড় ছেলে মাহফুজাসহ পরিবারের সদস্যদের ভারতে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে তারা জন্মনিবন্ধন ও অন্যান্য কাগজপত্র প্রস্তুত করেছিল। তবে পরে আবার দেশে ফিরে আসে। কেন মাসুম এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তা এখনও বোঝা যায়নি।”
মাসুমের ফুফাতো ভাই মান্না বলেন, “সকাল দশটার দিকে তার ভাবি তাকে বাথরুমে ঢুকতে দেখেন। দুপুর ১২টার দিকে বড় মেয়ে মাহফুজা এসে দেখেন, মাসুম গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছেন, আর মা ও দুই ভাই পাশে পড়ে আছে। অন্য কোনো ঋণের তথ্য আমরা পাইনি। ধারণা করা হচ্ছে, মাসুম প্রথমে স্ত্রী ও সন্তানদের হত্যা করেছেন, পরে আত্মহত্যা করেছেন।”
পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইব্রাহিম খলিল জানান, চারজনের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়। “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাসুমই পরিবারের সদস্যদের হত্যা করে আত্মহত্যা করেছেন। তবে সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি।”
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আলমগীর জাহান বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে কোনো ক্লু পাওয়া যায়নি। পরিবারের সম্বন্ধে কোনো খারাপ তথ্য মেলেনি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, মাসুম প্রথমে স্ত্রী ও সন্তানদের হত্যা করেছেন এবং পরে আত্মহত্যা করেছেন। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট আসার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”
নিহতরা হলেন— মোহাম্মদ মাসুম (৩৫), তার স্ত্রী ফাতেমা আক্তার সুমি (৩০), ৪ বছরের ছেলে মিনহাজ এবং ২ বছরের ছেলে আসাদ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে কোনো এক সময় তাদের মৃত্যু হয়েছে।